হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং সদর মডেল থানার ঠিক সামনে অবস্থিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জেলার প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর প্রধান কার্যালয়ের গা-ঘেঁষে স্থাপিত এই স্মারক স্তম্ভে রাতের আঁধারে আগুন দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া স্থানীয় ছাত্র-জনতার মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর পরই এই ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় একাধিক ছাত্র ও যুব সংগঠন। অগ্নিসংযোগের ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানাতে এবং এর সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে রোববার (৮ নভেম্বর) রাতে জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে ‘হবিগঞ্জ ছাত্রশক্তি’ ও ‘জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল’। বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, জুলাই বিপ্লবের আত্মত্যাগ ও স্মৃতিবিজড়িত এই স্তম্ভে আগুন দিয়ে সমাজ ও রাজনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টির উস্কানি দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ ছাত্র-জনতা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
এই অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হবিগঞ্জ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাসেল মিয়া। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ঘটনার সঙ্গে যে বা যারাই প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকুক না কেন, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া চলবে না। অবিলম্বে অপরাধিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে শিক্ষার্থীরা পুনরায় রাজপথে নেমে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে ঘটনার তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, গভীর রাতে আগুন লাগানোর পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে। ঘটনার সঙ্গে নির্দিষ্টভাবে কারা জড়িত, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অগ্নিকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থল ও তার আশপাশে উপস্থিত থেকে যেসব পথচারী বা উৎসুক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেছিলেন, তাদের চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ আশা করছে, এই ভিডিওগুলো ও পারিপার্শ্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে পুরো ঘটনার পেছনে অন্য কোনো গভীর চক্রান্ত রয়েছে কি না, তা জানতেও তদন্ত চলছে।


