যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের বিতাড়নে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। অভিবাসীদের ‘স্বেচ্ছা নির্বাসনে’ বাধ্য করতে এবার সামাজিক সুরক্ষা নম্বর (SSN) বাতিলের পথে হাঁটছে তারা। এ উদ্দেশ্যে মৃতদের তালিকায় জীবিত অভিবাসীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।
শুক্রবার (১১ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পত্রিকাটি জানিয়েছে, ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে দেশটিতে বসবাসরত হাজার হাজার অভিবাসীর অস্থায়ী বৈধ অবস্থান বাতিল করতে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্য সেইসব অভিবাসী, যারা প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শাসনামলে বৈধতা পেয়েছিলেন।
নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, অভিবাসীদের বিতাড়নে এখন প্রশাসন নতুন এক কৌশল নিয়েছে— তা হলো, বৈধ অভিবাসীদের “ডেথ মাস্টার ফাইল” নামে মৃতদের জন্য ব্যবহৃত একটি সরকারি ডেটাবেসে যুক্ত করা। ফলে, আইনি দিক থেকে তাদের মৃত হিসেবে বিবেচনা করে সামাজিক সুরক্ষা নম্বর (SSN) বাতিল করা হচ্ছে।
SSN যুক্তরাষ্ট্রে পরিচয়, চাকরি, ব্যাংক লেনদেন, ট্যাক্স রিটার্ন ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিচয়পত্র। এই নম্বর বাতিল হলে ওইসব ব্যক্তিরা আর এসব সেবা গ্রহণ করতে পারবেন না— যা কার্যত তাদের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস অসম্ভব করে তুলবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি সপ্তাহেই ৬,৩০০ অভিবাসীর নাম এই “মৃতদের তালিকায়” যুক্ত করা হয়েছে, ফলে তারা সকলেই তাদের বৈধ অবস্থান হারিয়েছেন। প্রশাসনের দাবি, প্রথম দফার এই তালিকায় যারা রয়েছেন, তারা “অপরাধে দোষী সাব্যস্ত” বা “সন্ত্রাসের সন্দেহভাজন”।
তবে কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই তালিকা আরও বিস্তৃত হতে পারে, এবং যেকোনো অননুমোদিত অভিবাসী এতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।
এই পদক্ষেপ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকেরা বলছেন, জীবিত মানুষকে “মৃত” হিসেবে ঘোষণা করে তাদের পরিচয় বাতিল করা শুধুই আইনি নয়, নৈতিকভাবেও গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এতে অভিবাসীরা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি প্রান্তিক হয়ে পড়বেন এবং বাধ্য হয়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হবেন।
এ বিষয়ে এখনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি— বিশেষ করে, “ডেথ মাস্টার ফাইল”-এ নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে কোনো আইনি প্রতিকার থাকবে কি না, সে প্রশ্ন এখনো অনুত্তরিত।
নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, এই নীতির মাধ্যমে ট্রাম্প তার আগের প্রশাসনের “কঠোর অভিবাসন” দর্শনেরই সম্প্রসারণ ঘটাচ্ছেন। এই দর্শনের মূল লক্ষ্য ছিল সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অভিবাসন হ্রাস এবং তথাকথিত “শুদ্ধ নাগরিকত্ব” রক্ষা।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে মানবিক সংকটকে আরও গভীর করবে— বিশেষ করে তাদের জন্য, যারা বহু বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন, কর দিয়েছেন এবং সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
খবরওয়ালা/জেআর



