জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সামনে প্রকাশ্যে এক নারীকে গালি দেওয়ার ঘটনায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন ছয় নারী। এদের মধ্যে তিনজন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী এবং বাকি তিনজন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধি।
সোমবার (৫ মে) দুপুরে লিগ্যাল নোটিশটি পাঠানো হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন এনসিপির নেত্রী সৈয়দা নীলিমা দোলা। তিনি জানান, অ্যাডভোকেট পলাশের মাধ্যমে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং মঙ্গলবারের (৬ মে) মধ্যে হেফাজতের হাতে এটি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
ওই গালির প্রেক্ষিতেই লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন এনসিপির নেত্রী সৈয়দা নীলিমা দোলা, দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী ও নীলা আফরোজ, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উম্মে রায়হানা, উম্মে ফারহানা ও ক্যামেলিয়া শারমিন চূড়া।
নোটিশের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় গত শুক্রবার (২ মে) বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে হেফাজতে ইসলামের একটি বিক্ষোভ সমাবেশে। সেখানে দলটির এক নেতা সরকারি প্রস্তাবিত নারী সংস্কার কমিশন নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে একজন নারীকে প্রকাশ্যে ‘বেশ্যা’ বলে গালি দেন।
এ প্রসঙ্গে সৈয়দা নীলিমা দোলা বলেন, ‘পাবলিক প্লেসে একজন নারীকে ‘বেশ্যা’ বলা আমাদের নারীর সম্মান, অধিকার ও সংবিধান পরিপন্থি। গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার সবাই রাখে, কিন্তু তা যেন হয় শালীন ভাষায়। নারীকে অসম্মান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি আরও বলেন,‘এই রাষ্ট্র সবার। সরকার নারী সংস্কার কমিশন গঠন করেছে—এ নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে, কিন্তু তাই বলে প্রকাশ্যে নারীদের অপমান করা যায় না। নারী বিদ্বেষমূলক বক্তব্য নতুন বাংলাদেশের আদর্শের পরিপন্থি।’
নোটিশদাতারা জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পর নারীর অংশগ্রহণ ও ত্যাগ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং, এই নতুন বাংলাদেশে নারীর সম্মান ও অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না।
তারা আরও বলেন, ‘সরকারের প্রস্তাবনায় গঠিত নারী সংস্কার কমিশন নিয়ে দ্বিমত থাকতেই পারে, কিন্তু যারা তাতে কাজ করেছেন—তাদের উদ্দেশে এমন কুরুচিপূর্ণ গালি সারা দেশের নারীর জন্য হুমকি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে অপমান করার অধিকার নয়।’
লিগ্যাল নোটিশে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিচয় এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও উত্থাপন করা হয়েছে। সরকারঘনিষ্ঠ একটি সংগঠন কীভাবে জনসমক্ষে এমন অবমাননাকর বক্তব্য দেয়—তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
খবরওয়ালা/আরডি



