দেশের সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে ঘিরে সম্প্রতি একাধিক ভুয়া তথ্য ও গুজব ছড়ানো হয়েছে। এসব ভুয়া তথ্যের মধ্যে কিছু ভারতীয় গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া ‘টক-শোর’ নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে এবং ইউটিউবেও ছড়ানো হয়েছে বিভ্রান্তিকর খবর।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আজ বুধবার (২২ মে) এক পোস্টের মাধ্যমে এসব ভুয়া তথ্য শনাক্ত করেছে। পোস্টটিতে ২৪টি ছবি যুক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর প্রতিটিকে ‘ফেক কার্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সেখানে দেখা যায়, ভারতের কিছু সংবাদমাধ্যম সেনাপ্রধানকে নিয়ে প্রকাশ করেছে চরম অসত্য ও উসকানিমূলক সংবাদ। যেমন—‘আজ-তাক বাংলা’ একটি খবরে শিরোনাম করেছে, ‘প্রাণ বাঁচাতে ভারতের কাছে আশ্রয় চাইছেন ওয়াকার! ভারত কী করবে?’ অন্য এক খবরে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের বড় সেনাকর্তাকে সাজা, ওয়াকার উজ জামানকে খমতের প্ল্যান করেছিল?’
‘কলকাতা নিউজ’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিওর শিরোনাম ছিল, ‘ঢাকায় এবার সামরিক শাসন? কোন পথে ওয়াকার উজ জামান?’
এ ছাড়া, দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী কয়েকজন ইউটিউবার বিভিন্ন চটকদার শিরোনামে ভুয়া ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এসব ভিডিও ও পোস্ট সেনাবাহিনীর নজরে এসেছে এবং যাচাই করে ভুয়া হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
তবে সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজে ভুয়া তথ্যের এসব স্ক্রিনশট ‘ফেক কার্ড’ হিসেবে প্রকাশ করা হলেও এসবের উৎস, দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এ ধরনের অপপ্রচার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। সময়মতো সঠিক তথ্য জানানোর পাশাপাশি গুজবকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
খবরওয়ালা/এন



