খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই জুন ২০২৫, ২:২৫ এএম
বগুড়ায় শরিয়াহভিত্তিক লভ্যাংশের প্রলোভনে জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ হাজারের বেশি নেতাকর্মী ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কর্মী আমিরুজ্জামান পিন্টুর বিরুদ্ধে।
তিনি ‘রেইনবো মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি’সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান খুলে এ প্রতারণা করেন। বর্তমানে তিনি লাপাত্তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমিরুজ্জামান পিন্টু রেইনবো মাল্টিপারপাস ছাড়াও রেইনবো হোমস, রেইনবো কৃষি উন্নয়ন সংস্থা এবং রেইনবো হাসপাতাল নামে একাধিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। অধিক লাভের আশ্বাস দিয়ে তিনি মূলত জামায়াত-শিবির ঘরানার লোকজন, প্রবাসী এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করেন।
ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ফজলুর রহমান জানান, তিনি ২০১৬ সালে বিনিয়োগ শুরু করে ধাপে ধাপে ৯০ লাখ টাকা দিয়েছেন। ফেরত পেয়েছেন মাত্র সাত লাখ টাকা। তার অভিযোগ, পিন্টু ও তার সহযোগী হামিদুল হক তোতা গত এক বছর ধরে মুনাফা বা মূলধনের কোনো অংশ ফেরত দেননি।
পাওনাদারা একাধিকবার পিন্টুর বাড়ি ও অফিস ঘেরাও করলেও তাকে খুঁজে পাননি। সর্বশেষ ২ জুন নির্ধারিত তারিখে টাকা ফেরতের কথা ছিল, তবে সেদিনও তিনি পালিয়ে যান বলে অভিযোগ।
বগুড়া শহর জামায়াতে ইসলামীর আমির আবিদুর রহমান সেহেল জানান, আমিরুজ্জামান পিন্টুর সঙ্গে এখন জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি নব্বইয়ের দশকে শিবিরের কর্মী ছিলেন, এরপর রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান।
বগুড়া সদর থানার ওসি হাসান বাসির জানান, ভুক্তভোগীদের মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেউ মামলা করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, “ধর্মের নাম করে আমাদের সর্বস্ব লুটে নেওয়া হয়েছে। সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ ছাড়া এ প্রতারণার বিচার হবে না।”
মন্তব্য