রাজ কাপুর, যশ চোপড়া, দেব আনন্দ, রাজেশ খান্নাদের সঙ্গে একের পর এক হিট ছবিতে অভিনয় করা অভিনেত্রী অচলা সচদেব শেষ জীবন কাটিয়েছেন একাকীত্বে ও অবহেলায়।
‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’-তে কাজলের দাদির চরিত্রে এবং ‘ওয়াক্ত’ ছবির অমর গান আয়ে মেরি জোহরা জবীন এর নায়িকা হিসেবেই তাঁকে অনেকেই মনে রাখেন।
১৯২০ সালে পেশোয়ারে জন্ম নেওয়া অচলা পঞ্চাশের দশকে আকাশবাণী থেকে অভিনয়ে আসেন। ‘মেরা নাম জোকার’, ‘হিমালয় কি গোদ মে’, ‘জুলি’সহ শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেন। ইংরেজি সিনেমা নাইন আওয়ার্স টু রামা ও দ্য হাউসহোল্ডার এও ছিলেন। ১৯৬৫ সালের ওয়াক্ত তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
১৯৭০-এর দশকে পুনেতে স্থায়ী হন এবং বিয়ে করেন ব্রিটিশ নাগরিক ক্লিফোর্ড ডগলাস পিটার্সকে। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একেবারেই নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে, মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন—জীবনের শেষ ১২ বছর কাটে পুনের দুই কামরার ফ্ল্যাটে এক সেবিকার সহায়তায়। মৃত্যুর আগে নিজের বাড়ি ও অর্থ জনসেবা ফাউন্ডেশনকে দান করেন, যেখান থেকে ‘অচলা সচদেব ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন’ প্রতিষ্ঠিত হয়।
২০১২ সালে ৯১ বছর বয়সে তিনি মারা যান। শেষ সময়ে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও খুব বেশি সাড়া পাননি। মৃত্যুর পর কেবল অমিতাভ বচ্চন ও একতা কাপুর তাঁকে শ্রদ্ধা জানান—বলিউডের আরও অনেক তারকার মতোই অচলার গল্পও শেষ হয় নিঃসঙ্গতায়।
খবরওয়ালা/আশ



