রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৩৬৫ দিন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন।
তারা বলেন, অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেলেও জনগণের জীবন-জীবিকায় এখনও স্বস্তি আসেনি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তায় দুর্বলতা স্পষ্ট।
অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহণ ও শ্রম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের সব খাতের কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিচারবিহীন রাজনীতি ও স্বার্থের সংঘাত সব পরিকল্পনাকে ব্যাহত করেছে। তিনি পুলিশের সংস্কার ও শ্রম খাতে চলমান সংকটের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও বিনিয়োগ কমে গেছে। নতুন ব্যাংক আইন ও আর্থিক খাতের সংস্কার কাজ চলছে। তিনি বলেন, রাজনীতির ঊর্ধ্বে আর্থিক খাত রাখতে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কাজ হলো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা। চাপিয়ে দেওয়া সংস্কার টেকসই নয় এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন জরুরি।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, এক বছরের মধ্যে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় রোধ করা গেছে, তবে মূল্যস্ফীতি উচ্চ ও বিনিয়োগ স্থবির রয়েছে। দরিদ্রদের জন্য চলমান কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা শ্রম বাজার, ব্যাংকিং খাত, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম সংস্কারসহ নানা বিষয়ে মতামত প্রদান করেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়।
খবরওয়ালা/আশ



