ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ থাকলেও অনলাইনে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। প্রার্থীরা যখন ১৪ দফা ও ২৭ দফা ইশতেহার নিয়ে প্রচারণায় ব্যস্ত, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে তাদের বিরুদ্ধে ছড়ানো হচ্ছে অপতথ্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং সাইবার বুলিং। বিশেষ করে নারী প্রার্থীরা এই অনলাইন আক্রমণের শিকার হচ্ছেন বেশি।
নির্বাচনে নতুন করে যুক্ত হয়েছে বট আক্রমণ। ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে প্রার্থীদের ছবি বিকৃত করা, মিম তৈরি এবং মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর ঘটনা বেড়ে চলেছে। বিপক্ষ প্রার্থীদের লক্ষ্য করে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত ২৪ আগস্ট বিটিআরসিকে চিঠি দিয়ে কয়েকটি ফেসবুক পেজ বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছে। এর মধ্যে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা মঞ্চ’ এবং ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ-১ ও ২’ উল্লেখযোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকেও এক বিজ্ঞপ্তিতে সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে প্রশাসন এর প্রমাণও দিয়েছে।
আচরণবিধিসংক্রান্ত টাস্কফোর্সের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রব্বানী সাইবার বুলিংকে এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া, ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে শিক্ষকদের নিয়ে একটি স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষক দল গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। তিনি আরও জানান, ভোটারদের, বিশেষ করে নতুন ভোটারদের, সক্রিয় করতে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যানদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ এবং স্বতন্ত্র প্যানেল ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’ তাদের ইশতেহার ঘোষণা করেছে। ছাত্র অধিকার পরিষদের স্লোগান ‘নো মোর ডার্টি পলিটিক্স, নো মোর ভায়োলেন্স’, আর সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদের মূলমন্ত্র হলো ‘ডিইউ ফার্স্ট’।
নির্বাচন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যান চলাচল সীমিত করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা থেকে ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত শাহবাগ, পলাশী, দোয়েল চত্বরসহ কয়েকটি প্রবেশপথ সাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন



