খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: ৩০ই অক্টোবর ২০২৫, ৬:২৭ পিএম
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় সৎমাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শাহিন মুন্সি (২৫) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাত সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার বাতাঘাসী ইউনিয়নের সব্দলপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত হালিমা খাতুন (৩৪) সব্দলপুর গ্রামের এমদাদুল হক মুন্সির দ্বিতীয় স্ত্রী। অভিযুক্ত শাহিন মুন্সি এমদাদুল হক মুন্সির চতুর্থ ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু হলে চার ছেলে ও তিন মেয়ের বাবা ৭৫ বছর বয়সী এমদাদুল হক মুন্সি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দুই মাস আগে তিনি দাউদকান্দির জয়নগর এলাকার হালিমা খাতুনকে বিয়ে করে ঘরে তোলেন। চার ছেলে সৌদিপ্রবাসী হলেও ছোট ছেলে শাহিন মুন্সি আট মাস আগে দেশে ফেরেন এবং বাড়িতেই থাকছিলেন।
এমদাদুল হক মুন্সি বলেন, ‘রাত ১১টার দিকে আমি শৌচাগারে যাই। ফিরে এসে দেখি স্ত্রী বিছানায় কাতরাচ্ছে, আর চারদিকে রক্ত ছড়িয়ে আছে। ডাকচিৎকার দিলে পরিবারের লোকজন ছুটে আসে। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে কুমিল্লা মেডিকেলে নিয়ে যাই। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
পুত্রবধূ শিরিনা আক্তার বলেন, ‘আমরা পাশের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ শ্বশুরের চিৎকার শুনে ছুটে এসে দেখি, শাহিন ঘর থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। আর সৎ শাশুড়ি রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছে।’
বাতাঘাসী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান সিরাজ জানান, এমদাদুলের দ্বিতীয় বিয়েকে পরিবার মেনে নিয়েছিল। কেন শাহিন এমন ঘটনা ঘটাল, তা কেউ বলতে পারছে না। ঘটনার পর থেকে শাহিন পলাতক।
চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম বলেন, ঢাকা থেকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নিহত নারীর স্বামী এমদাদ মুন্সি অভিযোগ করেছেন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য