মেঝেতে শিশুর চিকিৎসা—চাপে নাজেহাল ফেনী জেনারেল হাসপাতাল

মাত্র ১৫ দিন বয়সী মরিয়ম জান্নাত—জন্মের পর থেকেই নিউমোনিয়ায় ভুগছে। মা মার্জিনা আক্তার তাঁকে নিয়ে ছুটে এসেছেন ফেনীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু রোগীর চাপে এই হাসপাতালে শয্যা পাওয়া যেন ভাগ্যের ব্যাপার। তাই মায়ের কোল, একটি পাতলা চাদর আর শিশু ওয়ার্ডের ঠান্ডা মেঝেই এখন মরিয়মের আশ্রয়।

ফেনীতে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি পুরোপুরি নাজেহাল অবস্থায়। চিকিৎসকেরা বলছেন, ধারণক্ষমতার কমপক্ষে পাঁচ গুণ শিশুর চাপ প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে।

হাসপাতালের সক্ষমতা ও বর্তমান অবস্থা

বিষয় সংখ্যা
মোট শয্যা ২৫০
শিশু ওয়ার্ডের শয্যা ২৬
বর্তমান ভর্তি শিশু ১২৫
প্রতিদিন নতুন ভর্তি ২৫–৩০
নার্স প্রয়োজন ১৬–১৭
নার্স রয়েছেন ১০
আগত রোগীর উৎস ফেনীর ৬ উপজেলা + সেনবাগ, চৌদ্দগ্রাম, বারইয়ারহাট, রামগড়

গত শুক্রবার শিশু ওয়ার্ডে কথা হয় মার্জিনা আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন,
“শয্যা পাইনি। বাধ্য হয়ে মেঝের এক কোণে শিশুকে নিয়ে থাকছি। এতে ঠান্ডা লেগে আরও অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ভয় আছে।”

শুধু মরিয়ম নয়—কমপক্ষে ১৫০ শিশুকে মেঝেতে বা বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জায়গার অভাবে অনেক পরিবার বেসরকারি ক্লিনিক বা অন্য শহরমুখী হতে বাধ্য হচ্ছে, ফলে চিকিৎসার খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

সদরের শর্শদি ইউনিয়ন থেকে আসা আব্রাহাম ইসলাম জানান, তাঁর ৩.৫ মাস বয়সী শিশুটি শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগে আক্রান্ত।
“টানা তিন দিন মেঝেতে আছি। শয্যা তো পাই না-ই, ওষুধও ঠিকমতো মিলছে না,”—বললেন তিনি।

হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ নার্স বনানী বিশ্বাস বলেন,
“অক্টোবর থেকে আক্রান্ত শিশু বাড়ছে, তবে নভেম্বরে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শিশুদের নিরাপদে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।”

শিশু ওয়ার্ড ইনচার্জ রওনক জাহান জানালেন, স্বজনদের অতিরিক্ত ভিড়ও কাজের স্বাভাবিকতা ব্যাহত করছে।

চিকিৎসক মো. ইকবাল হোসেন বলেন,
“স্বল্প জনবল নিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী সামলাতে হচ্ছে। মেঝে ও বারান্দায় থাকা রোগীদের স্যালাইন ও জরুরি চিকিৎসা দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব বাড়ি পাঠানো হচ্ছে।”

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মহিউদ্দিন আহম্মেদ জানান,
“জনবল কম, তবু সবাই প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে রোগীর চাপ কমবে বলে আশা করি।”

রাতদিন লড়াই করে শিশুগুলোর চিকিৎসা দেওয়া হলেও, ঠান্ডার প্রকোপ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

খবরওয়ালা/এসজে

Tags :

নিউজ ডেস্ক | খবরওয়ালা বাংলা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।