কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের সরবরাহ ও বিতরণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উৎকণ্ঠা থামছেই না। উপজেলার একটি ইটভাটা থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ২৩ বস্তা সার উদ্ধারের পরদিনই সারের দাবিতে ফের বিক্ষোভে নেমেছেন স্থানীয় কৃষকরা। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে সোনাহাট ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করেন। এতে প্রধান সড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে উপজেলার একটি ইটভাটা থেকে ১৬ বস্তা ইউরিয়াসহ মোট ২৩ বস্তা সার উদ্ধার করে। এই ঘটনার পরদিন সকালেই সারের সংকটের আশঙ্কায় কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। সার নিতে আসা চাষীদের অভিযোগ, সকালে ডিলার পয়েন্ট থেকে সার বিক্রি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে বিক্রি শুরু হয়নি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর সার না পাওয়ার আশঙ্কায় শত শত কৃষক রাস্তায় নেমে এসে শোরগোল শুরু করেন এবং সড়ক বন্ধ করে দেন।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া কৃষকরা নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আমন মরসুমে জমিতে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সার ডিলারদের কাছে পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েকদিন ধরে পয়েন্টগুলোতে ঘুরেও তারা খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে ডিলার পয়েন্টে সারের গাড়ি দেখলেই এক ধরণের আতঙ্ক ও তাড়াহুড়ো তৈরি হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ সদস্যসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অবিকল অমৃত দেব নাথ। তিনি মাইক হাতে সারের কোনো ঘাটতি নেই বলে ঘোষণা দেন এবং পর্যাপ্ত সরবরাহের আশ্বাস দিয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরে সার কেনার অনুরোধ জানান। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিবেশ শান্ত হলে কৃষকরা সুশৃঙ্খলভাবে সার সংগ্রহ শুরু করেন।
পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে ইউএনও জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ওই নির্দিষ্ট ডিলার পয়েন্টে সেদিন সার বিতরণের পরিকল্পনা ছিল না। তবে স্থানীয় কৃষকরা ডিলার পয়েন্টে উপস্থিত হয়ে হুড়োহুড়ি করে একসঙ্গে সার নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং সড়ক আটকে যায়। প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে এবং বর্তমানে উপজেলার ক্যাম্প মোড়সহ সকল পয়েন্টে সঠিকভাবে সার বিক্রি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পুরো উপজেলায় চাহিদানুযায়ী সরকারি সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ফলে কৃষকদের মিছামিছি আতঙ্কিত হওয়ার বা ডিলার পয়েন্টে হুড়োহুড়ি করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুপুর গড়াতেই ভূরুঙ্গামারীর সব কটি বিক্রয়কেন্দ্রে স্বাভাবিকভাবে কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ চলছিল।



