চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কোনো ওয়াজ মাহফিলে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
জেলা প্রশাসক বলেন,
“কোনো ওয়াজ মাহফিলে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি মেনে কাজ করছে।”
তিনি নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেনকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন, বিষয়টি কঠোরভাবে তদারকি করতে। নাজমুল ইসলাম সরকার আরও বলেন,
“আমরা আগের জায়গায়, অর্থাৎ বিশৃঙ্খলা বা অস্থিরতার দিকে ফিরে যেতে চাই না। জেলা প্রশাসন একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।”
ডিসি স্পষ্ট করেন, ধর্মীয় সভা বা ওয়াজ মাহফিলকে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে তা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া ধর্মীয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত বা উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। যারা এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক জানান, গত এক সপ্তাহে তিনি অন্তত ছয় থেকে সাতটি অভিযোগ পেয়েছেন, যেখানে ওয়াজের নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার ঘটনা ছিল। হাজীগঞ্জে অবস্থানকালে তিনি একই ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন,
“নির্বাচনী আচরণবিধি যাতে লঙ্ঘিত না হয়, সে কারণে আমি এই ধরনের বক্তব্যের বিষয়ে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছি।”
জেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ধর্মীয় ও সামাজিক সভা-মেলাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে তারা সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তথ্য-উপাত্তের সংক্ষিপ্ত টেবিল:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| হুঁশিয়ারি প্রদানকারী | মো. নাজমুল ইসলাম সরকার, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক |
| তারিখ ও সময় | ১৮ ডিসেম্বর, সকাল ১০টা |
| অনুষ্ঠান | হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা |
| মূল বার্তা | ওয়াজ মাহফিলে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া যাবে না, তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার |
| তদারকির দায়িত্ব | হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন |
| অভিযোগের সংখ্যা | গত এক সপ্তাহে ৬–৭টি অভিযোগ পাওয়া গেছে |
| প্রশাসনের নীতি | জিরো টলারেন্স, নির্বাচনী আচরণবিধি রক্ষা |
| সম্ভাব্য আইনানুগ ব্যবস্থা | রাজনৈতিক বক্তব্যের জন্য সরাসরি গ্রেপ্তার ও জরিমানা |



