খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী পাহাড় থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) একটি বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ, মর্টারের শেল, হ্যান্ড গ্রেনেড এবং বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করেছে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উখিয়া (৬৪) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।
বিজিবি জানায়, হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী পাহাড় ও বাহারছড়া ইউনিয়নের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পাহাড় এলাকায় কয়েকটি সশস্ত্র ডাকাত চক্র দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তুলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অপহরণ, গুম, খুন এবং মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত ছিল। এছাড়াও এসব চক্র সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান কার্যক্রমেও সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল জসীম উদ্দিন জানান, ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ৬৪ বিজিবি একটি তিন স্তরের কৌশলগত অভিযান শুরু করে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে রঙ্গীখালী পাহাড়ে সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা হলে বিজিবি সদস্যরা এলাকা ঘিরে ফেলে। ডাকাত দল গুলি ছোড়লে আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। এরপর ডাকাতরা তাদের অস্থায়ী ঘাঁটি ছেড়ে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে পালিয়ে যায়।
অভিযান শেষে পরিত্যক্ত ঘাঁটি থেকে উদ্ধার করা হয়:
জি-৩ রাইফেল, রাইফেলের বিভিন্ন অংশ ও ম্যাগাজিন
ওয়ান শুটার গান, এলজি শুটার গান, এমএ-১ (এমকে-২ ভ্যারিয়েন্ট)
একনলা গাদা বন্দুক, সিলিং
তিনটি আরজিএস হ্যান্ড গ্রেনেড, একটি মর্টারের গোলা
১৭ কেজি গান পাউডার, হাতবোমা তৈরির উপকরণ, দেশীয় অস্ত্র
মোট ৩০২ রাউন্ড গুলি এবং ব্যবহৃত খালি খোসা
বিজিবির প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এই অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করেই ডাকাত দলটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ চালিয়ে আসছিল।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন,
“দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৬৪ বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক ও সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযান স্থান | হ্নীলা ইউনিয়ন, রঙ্গীখালী পাহাড় ও বাহারছড়া পাহাড়, টেকনাফ |
| অভিযান সময় | ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত |
| অভিযানের দায়িত্বে | উখিয়া (৬৪) ব্যাটালিয়ন, বিজিবি |
| উদ্ধারকৃত অস্ত্র | জি-৩ রাইফেল, ওয়ান শুটার গান, এলজি শুটার গান, এমএ-১, একনলা গাদা বন্দুক, সিলিং, হ্যান্ড গ্রেনেড, মর্টারের গোলা, দেশীয় অস্ত্র |
| গোলাবারুদ | ৩০২ রাউন্ড, ১৭ কেজি গান পাউডার |
| অন্যান্য | বোমা তৈরির উপকরণ |
| অভিযানের উদ্দেশ্য | সশস্ত্র ডাকাত চক্রের কার্যক্রম বন্ধ ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা |
| পুলিশের বক্তব্য | ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক ও সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে |