ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। র্যাব-১৪ এর পরিচালক নাইমুল হাসান জানিয়েছেন, হত্যার আগে তাকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয় এবং এরপর উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই ঘটনা পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে দিপুর ছোট ভাই অপুর বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রাথমিকভাবে ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
র্যাব কর্মকর্তা নাইমুল হাসান বলেন, “ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বিকাল ৪টার দিকে। ফ্যাক্টরির ফ্লোর ইনচার্জ দিপুকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করে। ইস্তফা নেওয়ার পর তাকে উত্তেজিত জনতার হাতে হ্যান্ডওভার করা হয়। পুলিশের কাছে কেন হস্তান্তর করা হয়নি বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি—সেজন্যই ফ্লোর ম্যানেজারসহ কারখানার দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “বারবার চেষ্টা করেছি, কার নির্দেশে কি হয়েছে—এটি কেউ স্পষ্ট বলতে পারেনি। উত্তেজিত জনতা বা পূর্ব শত্রুতার বিষয়টিও তদন্তের অংশ হবে। গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা এবং পরে আগুন দিয়ে লাশ পুড়িয়ে ফেলা কোনোভাবেই আইনে বৈধ নয়। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এটি গ্রহণযোগ্য মনে করে না।”
এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে তিন প্রধান:
ফ্লোর ম্যানেজার আলমগীর হোসেন (৩৮)
কোয়ালিটি ইনচার্জ
মিরাজ হোসেন আকন (৪৬)
বাকি আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের মাধ্যমে, যারা হলেন: তারেক হোসেন (১৯), লিমন সরকার, মানিক মিয়া (২০), এরশাদ আলী (৩৯), নিঝুম উদ্দিন (২০), আজমল হাসান সগীর (২৬), শাহিন মিয়া (১৯) এবং মো. নাজমুল।
নাইমুল হাসান বলেন, “গ্রেফতারকৃতরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়। বাকি আসামিদেরও দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”
গত বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘটনাটি ঘটার পর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করা হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অর্ধপোড়া লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
মূল তথ্য (টেবিল আকারে)
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | দিপু চন্দ্র দাস (২৮) |
| স্থান | ভালুকা উপজেলা, ময়মনসিংহ |
| ঘটনার তারিখ | ১৮–১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ |
| ঘটনার কারণ | ধর্ম অবমাননার অভিযোগ |
| গ্রেফতারকৃত প্রধান | আলমগীর হোসেন (৩৮), মিরাজ হোসেন আকন (৪৬), কোয়ালিটি ইনচার্জ |
| গ্রেফতার অন্যান্য | তারেক হোসেন, লিমন সরকার, মানিক মিয়া, এরশাদ আলী, নিঝুম উদ্দিন, আজমল হাসান সগীর, শাহিন মিয়া, মো. নাজমুল |
| মামলা | ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা |
| তদন্তকারী সংস্থা | র্যাব-১৪ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ |
| লাশ ময়নাতদন্ত | ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গ |



