নেত্রকোণার মদন উপজেলায় এক কিশোরকে সন্ধ্যায় দোকান থেকে ডেকে নেওয়ার একদিনের মাথায় ধানক্ষেতে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনায় পুরো এলাকা শোকের ছায়ায় ঢেকে গেছে।
সোমবার সকালে উপজেলার মাঘান রৌহা হাওরে ফসলি জমিতে লাশটি পাওয়া যায়। মদন থানা পরিদর্শক (তদন্ত) দেবাংশু কুমার সাংবাদিকদের জানান, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা সহিংস মৃত্যুর প্রমাণ সরবরাহ করছে।
নিহত কিশোরের পরিচয় :
| তথ্য | বিবরণ |
| নাম | মো. শাওন |
| বয়স | ১৬ বছর |
| পিতার নাম | দুলাল ভূঁইয়া |
| গ্রামের নাম | পদমশ্রী ভূঁইয়াটি, গোবিন্দশ্রী ইউনিয়ন |
| বিদ্যালয় | জাহাঙ্গীরপুর টি আমিন সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় |
| শ্রেণি | ১০ম শ্রেণি |
পুলিশ ও স্থানীয়দের বিবরণ অনুযায়ী, রোববার বিকেলে শাওন কদমশ্রী বিকাল বাজারে তার দাদার দোকানে বসে ছিলেন। সন্ধ্যার সময় দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে ডেকে নিয়ে যায়। রাত পর্যন্ত বাড়ি ফেরেনি বলে পরিবার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে। কিন্তু কোন সদূরফল পাওয়া যায়নি। সোমবার সকালে ফসলি জমি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক মন্তব্য ও তদন্ত :
পুলিশ পরিদর্শক দেবাংশু কুমার বলেন,
“ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য তদন্ত চলমান। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আমরা মোবাইল কল ডেটা, সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়দের তথ্য সংগ্রহ করছি। আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
পুলিশ আরও জানিয়েছে, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা হয়তো হত্যার উদ্দেশ্য প্রমাণ করে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য বিশেষ টিম কাজ করছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া :
স্থানীয়দের মতে, শাওন ছিলেন শান্ত, শিক্ষাপ্রবণ ও নিয়মকানুন মেনে চলা কিশোর। তার অকাল মৃত্যু গ্রামবাসী, স্কুল বন্ধু ও শিক্ষকদের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা পুলিশি তদন্তে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছেন।
স্থানীয় এক প্রতিবেশী বলেন,
“শাওন আমাদের গ্রামের খুবই শান্ত ও পরিচ্ছন্ন ছেলে ছিল। সে এমন সহিংস পরিস্থিতিতে পড়বে তা কেউ ভাবতেও পারেনি। তার অকাল মৃত্যু আমাদের সবাইকে শোকগ্রস্ত করেছে।”
পুলিশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা :
মদন থানা এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। পুলিশ স্থানীয়দের সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্ত শেষে হত্যার সঠিক কারণ জানা যাবে।



