পাকিস্তানের শপিংমলে আগুনে ৫ জনের প্রাণহানি

পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচিতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত পাঁচজন। করাচির ব্যস্ত এমএ জিন্নাহ রোডে অবস্থিত গুল প্লাজা শপিং মলে শনিবার গভীর রাতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি এবং উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা যায়, শনিবার রাতের দিকে হঠাৎ করে শপিং মলের ভেতর আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে। মলের ভেতরে বিপুল পরিমাণ দাহ্য পণ্য থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধোঁয়ার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে অনেক মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েন এবং বের হওয়ার পথ খুঁজে পাননি।

করাচির সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক সাবির মেমন জানান, তিনজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের শরীরে আগুনে পুড়ে যাওয়ার গুরুতর চিহ্ন ছিল। পরে আরও দুইজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। করাচির ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল সৈয়দ আসাদ রেজা পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমকে জানান, মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ ভবনের ভেতরে এখনও অনেক অংশে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।

উদ্ধারকাজের মুখপাত্র হাসানুল হাসিব খান বলেন, “রবিবার সকাল পর্যন্ত আগুনের প্রায় ৩০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে। তবে ভবনটি অত্যন্ত পুরোনো হওয়ায় যেকোনো সময় কাঠামো ধসে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।” এ কারণে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন।

গুল প্লাজা শপিং মলটি করাচির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এখানে ছোট ও বড় মিলিয়ে প্রায় ১,২০০টি দোকান রয়েছে। এসব দোকানে কাপড়, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্লাস্টিক সামগ্রী, সুগন্ধি ও প্রসাধনীসহ বিভিন্ন ধরনের দাহ্য পণ্য বিক্রি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পণ্যের উপস্থিতিই আগুনের তীব্রতা এবং ধোঁয়ার ঘনত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো—

বিষয় তথ্য
অগ্নিকাণ্ডের স্থান গুল প্লাজা শপিং মল, এমএ জিন্নাহ রোড, করাচি
নিহত ৫ জন
আহত অন্তত ২০ জন
দোকানের সংখ্যা প্রায় ১,২০০টি
আগুন নিয়ন্ত্রণ প্রায় ৩০%
ভবনের অবস্থা পুরোনো, কাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ
উদ্ধার অভিযান চলমান, সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

এই দুর্ঘটনা আবারও করাচির পুরোনো বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা পরিদর্শন এবং জরুরি নির্গমনব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।