বরিশাল নগরীতে রোববার (২৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ২১ বছর বয়সী শারমিন আক্তার মিম নামের এক তরুণী আত্মহত্যা করেছেন। তার মরদেহ নগরের ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডের নাহার ম্যানশন থেকে উদ্ধার করা হয়।
নিহত মিম বরিশাল নগরীর পুলিশ লাইন্স রোড এলাকায় একটি কাপড়ের শো-রুমে কর্মরত ছিলেন। তিনি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার কুশঙ্গল গ্রামের বাসিন্দা মো. লাল মিয়ার মেয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিম তার প্রেমিককে ভিডিও কলে রেখেই গলায় ফাঁস দেন।
পুলিশি তথ্যে জানা গেছে, রাত আড়াইটার দিকে খবর পেয়ে ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডের খলিফা বাড়িতে অবস্থিত নাহার ম্যানশনের সুলতানের সাবলেট বাসা থেকে মিমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, “মিম খুবই শান্ত স্বভাবের ছিলেন। হঠাৎ এই ঘটনা আমাদের সবাইকে স্তম্ভিত করেছে। তার পরিবার এখন শোকের ছায়ায় ভুগছে।”
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মিম দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক চাপ ও প্রেমসংক্রান্ত দ্বন্দ্বে ভুগছিলেন। তার ছোট বোন বলেন, “আমরা বুঝতেই পারিনি, মিম এতটা চাপের মধ্যে ছিল।”
নিহতের তথ্য সংক্ষেপে নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নাম | শারমিন আক্তার মিম |
| বয়স | ২১ বছর |
| পিতার নাম | মো. লাল মিয়া |
| গ্রাম | কুশঙ্গল, নলছিটি, ঝালকাঠি |
| কর্মস্থল | বরিশাল, পুলিশ লাইন্স রোডের কাপড়ের শো-রুম |
| মৃত্যুর স্থান | নাহার ম্যানশন, ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোড, বরিশাল |
| মৃত্যুর সময় | রোববার, ২৫ জানুয়ারি, রাত ২টা (আনুমানিক) |
| উদ্ধারকারী | কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ |
| মর্গ | শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
প্রাথমিকভাবে পুলিশ বলছে, ঘটনার পেছনে মানসিক চাপ এবং পারিবারিক ও প্রেমসংক্রান্ত জটিলতা থাকতে পারে। তবে সঠিক কারণ জানার জন্য মৃত্যুর ঘটনায় বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
এই ঘটনায় বরিশাল নগরীতে একটি ছায়াময় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হবে এবং অপরাধমূলক কোনো দিক থাকলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



