সীমিত পরিসরে রাফা ক্রসিং পুনরায় চালু

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ফিলিস্তিনিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাফা সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। সোমবার থেকে সীমিত পরিসরে যাতায়াতের অনুমতি মিলছে বলে ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। তবে মিসরের রাষ্ট্র-সংযুক্ত গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক ধাপে উভয় দিক থেকে প্রতিদিন মাত্র ৫০ জন করে পারাপারের সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ মোট যাত্রীসংখ্যা হবে দিনে প্রায় ১০০ জন। এই সিদ্ধান্তকে মানবিক সহায়তা ও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ, যদিও অত্যন্ত সীমাবদ্ধ, অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাফা ক্রসিং গাজা উপত্যকার জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এটি ইসরায়েলি ভূখণ্ড এড়িয়ে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে সংযোগের একমাত্র স্থলপথ। যুদ্ধের শুরু থেকে গাজার বাসিন্দাদের বিদেশে চিকিৎসা নেওয়া, শিক্ষার্থী ও দ্বৈত নাগরিকদের যাতায়াত, এমনকি ত্রাণসামগ্রীর প্রবেশ—সবই এই পথের ওপর নির্ভরশীল। ২০২৪ সালের মে মাসে হামাসের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী রাফা এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়; এরপর দীর্ঘ সময় ধরে এই পারাপার কার্যত বন্ধ ছিল। ফলে লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা ও ভ্রমণ-সংক্রান্ত প্রয়োজন অমীমাংসিত থেকে যায়।

সীমান্ত খুলে দেওয়ার আগের সপ্তাহান্তে রাফা শহরে ইসরায়েলি হামলায় ডজনখানেক মানুষের প্রাণহানির খবর দিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, একটি সুড়ঙ্গ থেকে ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা বেরিয়ে আসার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই হামলা চালানো হয়। এই পটভূমিতে সীমান্ত খুললেও নিরাপত্তা ঝুঁকি ও কড়াকড়ি বহাল থাকছে। ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, প্রতিদিন আনুমানিক ছয় ঘণ্টা করে সীমান্ত পারাপার চালু থাকবে।

রোববার পরীক্ষামূলকভাবে সীমান্ত কার্যক্রম আংশিকভাবে শুরু হয়, তবে তখন মানুষের যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত ছিল না। মাসের পর মাস ধরে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা ও মানবিক সংগঠনগুলোর আহ্বানের পর এই সীমিত উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সহায়তা মিশনের দল পৌঁছানোর পর যাত্রী পারাপারের অনুমতি কার্যকর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মিসরের রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রথম কয়েক দিনে মিসর থেকে গাজার দিকে ৫০ জন এবং গাজা থেকে মিসরের দিকে ৫০ জন যাতায়াত করবেন।

সীমান্ত এলাকায় সোমবার কয়েক ডজন মানুষ মিসরের পাশে গাজায় প্রবেশের অপেক্ষায় জড়ো হন। তাঁদের অনেকেই গুরুতর অসুস্থ আত্মীয়ের কাছে ফিরছেন বা বিদেশে চিকিৎসার আশায় রয়েছেন। যুদ্ধের শুরুতে আহত হয়ে পা কেটে ফেলতে হওয়া ফিলিস্তিনি মোহাম্মদ নাসির বলেন, রাফা ক্রসিং তাঁর কাছে জীবনরেখার মতো। গাজায় যে ধরনের জটিল অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, তা স্থানীয়ভাবে সম্ভব নয়; বিদেশে চিকিৎসাই তাঁর একমাত্র ভরসা। এই অভিজ্ঞতা গাজার হাজারো আহত ও অসুস্থ মানুষের বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে।

রাফা ক্রসিংয়ের সীমিত পুনরায় চালু হওয়া মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্বস্তির খবর হলেও, দৈনিক কোটা ও সময়সীমা বিবেচনায় এটি প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই সমাধানের জন্য যাত্রী ও ত্রাণ পরিবহনের সক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে নিরাপত্তা উদ্বেগ ও প্রশাসনিক সমন্বয় নিশ্চিত করে সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও মানবিক ও কার্যকর করার দাবি উঠেছে।

রাফা সীমান্ত ক্রসিং: বর্তমান কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত চিত্র

বিষয় বর্তমান অবস্থা
প্রতিদিন যাত্রীসংখ্যা উভয় দিক মিলিয়ে প্রায় ১০০ জন
কার্যক্রমের সময় দৈনিক প্রায় ৬ ঘণ্টা
প্রাথমিক পর্যায় সীমিত পরীক্ষামূলক ধাপ
নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান নিরাপত্তা সমন্বয়সহ আন্তর্জাতিক সহায়তা উপস্থিত
প্রধান অগ্রাধিকার জরুরি চিকিৎসা, বিশেষ প্রয়োজনসম্পন্ন যাত্রী
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট সংঘাতের পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু

এই সীমিত উদ্যোগ মানবিক চাপ লাঘবে আংশিক সহায়ক হলেও, গাজার জনগণের বিস্তৃত প্রয়োজন পূরণে বৃহত্তর পরিসরে কার্যক্রম সম্প্রসারণই এখন সময়ের দাবি।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।