তৃণমূল ক্রিকেটের বিপ্লবে বিসিবির মেগা প্রকল্প: ১৩৭ উইকেট

বাংলাদেশের ক্রিকেটকে তৃণমূল পর্যায় থেকে শক্তিশালী করতে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সারা দেশের ১১টি অঞ্চলকে ক্রিকেট ‘হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার যে ঘোষণা বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম আগে দিয়েছিলেন, এবার তার বাস্তবায়ন ও বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন বোর্ডের গ্রাউন্ডস বিভাগের প্রধান এবং সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট। বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, প্রথম ধাপে আটটি হাবে মোট ১৩৭টি নতুন উইকেট বা পিচ তৈরি করা হবে।

আটটি হাবে উইকেটের বিন্যাস

বিসিবির এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার অধীনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মাঠগুলোকে খেলার উপযোগী করে তোলা হবে। মে থেকে জুন মাসের মধ্যে এই উইকেটগুলো তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় অনুশীলন মাঠ, মূল ম্যাচ খেলার মাঠ এবং আউটার স্টেডিয়ামের পিচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

নিচে প্রস্তাবিত ৮টি ক্রিকেট হাব এবং সেখানে নির্মিতব্য উইকেটের সংখ্যা ছক আকারে উপস্থাপন করা হলো:

ক্রিকেট হাবের নাম প্রস্তাবিত উইকেটের সংখ্যা গুরুত্ব ও বিশেষত্ব
বরিশাল ২৩টি সর্বাধিক উইকেট সংবলিত হাব
বিকেএসপি (৩ ও ৪ নম্বর মাঠ) ১৯টি দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির প্রধান কেন্দ্র
খুলনা ১৫টি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ক্রিকেটের প্রাণকেন্দ্র
ফতুল্লা ১৩টি আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যু ও অনুশীলন সুবিধা
পূর্বাচল (শেখ হাসিনা স্টেডিয়াম এলাকা) ১৩টি সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত নতুন জোন
রাজশাহী ১২টি উত্তরাঞ্চলের ক্রিকেটের অন্যতম প্রধান হাব
বগুড়া ১০টি উন্নত ড্রেনেজ ও মাটির বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত
কক্সবাজার ০৮টি পর্যটন ও ক্রিকেটের সমন্বয়ে বিশেষায়িত হাব

স্থানীয় কারিগর ও আধুনিক সরঞ্জামের সমন্বয়

খালেদ মাসুদ পাইলট স্পষ্ট করেছেন যে, এই উইকেটগুলো তৈরির মূল দায়িত্ব থাকবে স্থানীয় কিউরেটরদের ওপর। বিসিবি কেবল কারিগরি সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করবে। কেন্দ্রীয় বোর্ড থেকে উন্নতমানের মাটি, ঘাস কাটার আধুনিক মেশিন, রোলার, পিচ কাভার এবং প্রয়োজনে কংক্রিটের উইকেট প্রদান করা হবে। কিউরেটরদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে যাতে প্রতিটি অঞ্চলের মাটির গুণাগুণ বিচার করে মানসম্মত উইকেট তৈরি করা যায়।

বিসিবির এই সরঞ্জামগুলো কেবল নির্দিষ্ট স্টেডিয়ামেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং স্থানীয় একাডেমি, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এবং উপজেলা পর্যায়ের মাঠগুলোতেও প্রয়োজনে এগুলো ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।

দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ও আবদুর রাজ্জাকের পর্যবেক্ষণ

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিসিবি পরিচালক ও সাবেক ক্রিকেটার আবদুর রাজ্জাক এই উদ্যোগকে দেশের ক্রিকেটের জন্য একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, জুনের মধ্যে এই পিচগুলো তৈরি হয়ে গেলে আগামী মৌসুম থেকে জেলাভিত্তিক লিগগুলো আয়োজন করা অনেক সহজ হবে। এর ফলে ঢাকার বাইরের ক্রিকেটাররা নিজ এলাকাতেই মানসম্মত উইকেটে খেলার সুযোগ পাবেন, যা জাতীয় দলের পাইপলাইনকে আরও শক্তিশালী করবে।

উইকেট তৈরির এই মহাপরিকল্পনা সফল হলে খেলার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। বিসিবির এই উদ্যোগ সঠিক সময়ে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামোয় এক নতুন যুগের সূচনা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।