কলকাতার জনপ্রিয় গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও শিল্পী অনুপম রায় সম্প্রতি বাবা হয়েছেন। ১৭ আগস্ট কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর স্ত্রী গায়িকা প্রষ্পিতা পাল পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। অনুপম ও প্রষ্পিতা ২০২৪ সালের মার্চে বিয়ে করেছিলেন। তাঁদের সন্তান জন্মের খবর প্রকাশ্যে আসার পর অনুপমের ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে তাঁর আগের দুই বিয়ে নিয়েও নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
অনুপমের প্রথম স্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ‘শ্রেয়া’ নামটি উল্লেখ করা হয়েছে। জানা যায়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় তাঁদের পরিচয় ও সম্পর্কের শুরু। পরবর্তী সময়ে তাঁরা বিয়ে করেন। তবে সেই দাম্পত্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ব্যক্তিগত কারণে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরও দুজনের কেউই প্রকাশ্যে পরস্পরকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেননি। ফলে অনুপমের প্রথম দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে জনসমক্ষে তথ্যও খুব সীমিত।
অনুপম বরাবরই ব্যক্তিগত জীবনকে প্রচারের আলো থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন। তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপস্থিতিতেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের তুলনায় গান, সৃষ্টিকর্ম ও পেশাগত কর্মকাণ্ডই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রথম স্ত্রী শ্রেয়ার ক্ষেত্রেও একই ধরনের গোপনীয়তা বজায় ছিল। প্রকাশ্যে তাঁদের একসঙ্গে ছবি বা ব্যক্তিগত জীবনের বিস্তারিত তথ্য প্রায় দেখাই যায়নি।
অনুপমের দ্বিতীয় বিয়ে হয় পিয়া চক্রবর্তীর সঙ্গে। ২০১৫ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। পিয়া সমাজকর্মী হিসেবে পরিচিত হলেও সংগীতের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তিনি গান করেন এবং একসময় অনুপমের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মঞ্চও ভাগ করেছেন। তাঁদের সম্পর্কের ব্যক্তিগত ও পেশাগত—দুই দিকই শ্রোতাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছিল।
তবে কয়েক বছর পর সেই সম্পর্কেও ছেদ পড়ে। ২০২১ সালে তাঁরা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের কথা জানান। বিচ্ছেদের পর অনুপম এক সাক্ষাৎকারে পিয়ার চলে যাওয়াকে তাঁর জীবনের অন্যতম বড় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁদের বিচ্ছেদ ঘিরে নানা আলোচনা হলেও দুজনের পক্ষ থেকেই বিষয়টি নিয়ে তুলনামূলক সংযত অবস্থান দেখা যায়।
পরবর্তীতে পিয়া অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেন। তাঁদের পরিবারেও এসেছে সন্তান। অন্যদিকে অনুপম ২০২৪ সালে গায়িকা প্রষ্পিতা পালকে বিয়ে করেন। এবার তাঁদের সংসারে এসেছে নতুন সদস্য।
২১ আগস্ট প্রষ্পিতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের সন্তানের প্রথম ঝলক প্রকাশ করেন। ছবিতে শিশুটিকে মায়ের কোলে ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায়, তবে তার মুখ প্রকাশ করা হয়নি। ছবির সঙ্গে প্রষ্পিতা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লেখেন, সন্তানকে ঘিরে প্রতিটি মুহূর্তের জন্য তিনি ঈশ্বর ও প্রকৃতির কাছে কৃতজ্ঞ।
অনুপম রায়ের ব্যক্তিগত জীবনের নানা অধ্যায় নিয়ে আলোচনা থাকলেও তাঁর সংগীতজীবনের গুরুত্ব আলাদা। ২০১০ সালে সৃজিত মুখার্জির চলচ্চিত্র ‘অটোগ্রাফ’-এর মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রের সংগীতে তাঁর বড় ধরনের পরিচিতি তৈরি হয়। ‘আমাকে আমার মতো থাকতে দাও’ এবং ‘বেঁচে থাকার গান’-এর মতো গান তাঁকে দ্রুত শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে।
এরপর গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী হিসেবে অনুপম রায় বাংলা সংগীতের অন্যতম পরিচিত নাম হয়ে ওঠেন। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বাংলাদেশেও তাঁর গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে একাধিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেলেও সংগীতের জগতে তাঁর অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্বতন্ত্র।
এখন অনুপমের জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে বাবা হওয়ার মধ্য দিয়ে। অতীতের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও তাঁর বর্তমান জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে প্রষ্পিতা ও তাঁদের নবজাতক সন্তান।


