খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৫ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা একচ্ছত্র শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরবর্তী সময়ে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। অনেকেই তখন ভেবেছিলেন—এটি হবে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের পথে এক নতুন যাত্রা।
কিন্তু এক বছর পর এসে সেই আশাবাদের জায়গায় ঘনীভূত হয়েছে হতাশা। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারে অগ্রগতি নেই, প্রশাসনিক সংস্কারে স্থবিরতা স্পষ্ট, আর সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সংযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। আলজাজিরা, রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো সরকারের এই ব্যর্থতাকে তুলে ধরেছে রাজনৈতিক সতর্কসংকেত হিসেবে।
জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, যাদের জন্য আত্মত্যাগ, সেই স্বপ্ন আজ দুরাশায় পরিণত হয়েছে।
শহীদ ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাচ্চারা যে উদ্দেশ্যে জীবন দিয়েছে, সেইভাবে একটি স্বৈরাচারমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন তারা দেখেছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, সেই স্বপ্ন আমরা হারাতে বসেছি।’
ফাইয়াজের খালা নাজিয়া খান বলেন, ‘আমার একটাই আশা—আমি যেন বেঁচে থাকি সেদিন পর্যন্ত, যেদিন খুনির বিচার হতে দেখব।’
মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন মনে করেন, সরকারের পাশাপাশি তদন্তকারী সংস্থাগুলোরও এই মামলাগুলোর প্রতি অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, ‘ছয়-সাত মাসের মধ্যে চার্জশিট দাখিল সম্ভব ছিল। কিন্তু এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, তদন্ত শেষ হয়েছে কিনা।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক আসিফ এম শাহীনের মতে, সরকার এখনো সাধারণ মানুষের মনোভাব ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এই সরকারের সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে কোনো সংযোগ নেই। মূলত এলিটদের সঙ্গেই তারা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এতে রাজনৈতিক সংস্কারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না, বরং হতাশা বাড়ছে।’
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো একবছরের অর্জন মূল্যায়নে বলছে, অন্তর্বর্তী সরকার দৃশ্যমান কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্কার না করে রাজনৈতিক দলগুলোর চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার এখন নিজস্ব লক্ষ্য ও পরিকল্পনার চেয়ে দলীয় চাপ মেটাতেই বেশি ব্যস্ত।
এ ছাড়া দেশব্যাপী এখনো চলছে সহিংসতা ও মব ভায়োলেন্স, যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অবস্থান নিতে পারছে না প্রশাসন। ফলে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থাও ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।
খবরওয়ালা/এন