গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বেলকা গ্রামে অসুস্থ ছাগল জবাইয়ের পর অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে রোজিনা বেগম (৫০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৫ অক্টোবর) রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মৃত রোজিনা বেগম স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি আবুল হোসেনের স্ত্রী। তিনি চার মেয়ে ও দুই ছেলের জননী ছিলেন।
মায়ের মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। সোমবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাড়ির উঠানে মায়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ছোট ছেলে রইসুল ইসলাম বলেন, ‘মা সংসারটাকে আগলে রাখতেন। সবার জন্য ভাবতেন। আমরা বড় হয়েছি, তারপরও কোথাও যাওয়ার সময় মাকে না বলে যেতাম না। বাড়িতে ঢুকেই আগে মাকে ডাকতাম। মা পরপারে চলে গেছেন, এখন কাকে মা ডাকব?’
মায়ের চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করে বড় ছেলে রুবেল মিয়া বলেন, ‘আমার মায়ের ভালোভাবে চিকিৎসা হয়নি। হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেয়নি। সবকিছু বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।’
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোজিনার তিনটি ছাগল ছিল। এর মধ্যে একটি ছোট ছাগল অসুস্থ হয়ে পড়ে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ওই ছাগলটি জবাই করার সময় তাঁর হাতের আঙুলে ক্ষত হয়। এর পর থেকেই তাঁর শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিবাকর বসাক বলেন, রোজিনার শরীরে অ্যানথ্রাক্স রোগের উপসর্গ ছিল। খুব খারাপ অবস্থায় তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। হৃদ্রোগ ও ফুসফুসে জটিলতা ছাড়াও রক্তচাপ কমে গিয়েছিল, শ্বাসকষ্ট ছিল। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়েই তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে তিনি মারা যান।
খবরওয়ালা/এসআর



