দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির যেকোনো চেষ্টা নস্যাৎ করতে এবং বিগত সরকারের দোসর হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বাহিনীকে তাদের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সক্ষমতা প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের গ্রেপ্তারে যেসব পুলিশ সদস্য বিশেষ ভূমিকা রাখবেন, তাঁদের পুরস্কৃত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ‘পদক প্রদান অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে তিনি ৯৮ জন পুলিশ সদস্যের গলায় বিপিএম ও পিপিএম পদক পরিয়ে দেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের সহযোগী ও আওয়ামী শক্তির দোসরদের যারা গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করতে পারবেন, তাঁদের সরকারের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হবে। অতি সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গত সপ্তাহে ফ্যাসিবাদের দুই প্রভাবশালী দোসরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং গতকালও একজনকে ধরা সম্ভব হয়েছে।
দীর্ঘদিন যারা আত্মগোপনে রয়েছেন, তাঁদের খুঁজে বের করতে পুলিশের নিজস্ব তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতার ওপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এতদিন যারা লুকিয়ে ছিলেন বা দেশে থেকে গোপনে সক্রিয় ছিলেন, তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করতে অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা তথ্যই সবচেয়ে কার্যকরী। অন্যান্য সংস্থার গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পুলিশকে তাদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক পুরোপুরি কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে বিগত সরকারের সময় ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মাত্র এক মাসে প্রায় ১ হাজার ৪০০ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এর বাইরেও গত ১৭ বছরে সংঘটিত নানা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও হেফাজতে মৃত্যুর ভয়াবহ সব চিত্র দেশের মানুষের সামনে স্পষ্ট। যারা বিমান বা হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করতে পারে এবং দেশের সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, জনগণ তাঁদের আর কখনোই রাজনীতিতে দেখতে চায় না।
পলাতক নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, এত বড় বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পরও তাঁদের মধ্যে কোনো অপরাধবোধ, অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনার মানসিকতা দেখা যায়নি। বরং তাঁরা বিদেশ থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে চলেছেন।
সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের হস্তান্তরের জন্য নিকটবর্তী প্রতিবেশী দেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির (এক্সট্রাডিশন ট্রিটি) আলোকেই এই আবেদন করা হয়েছে। তাঁরা যদি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হন তবে সেটি উত্তম, অন্যথায় আইন তার নিজস্ব গতিতে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।


