ঢাকার বাজারে আজ, ৫ অক্টোবর ২০২৬, বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ডলার, ব্রিটিশ পাউন্ড, ইউরো, ভারতীয় রুপি, অস্ট্রেলিয়ান ডলার, সিঙ্গাপুর ডলার, চীনা ইউয়ান ও জাপানি ইয়েন—এসব মুদ্রার কেনা ও বিক্রির নির্ধারিত হার জানা গেছে।
আজকের তালিকায় মার্কিন ডলারের কেনার হার ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা এবং বিক্রির হার ১২৩ টাকা। অর্থাৎ এক ডলার কিনতে নির্ধারিত বিক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা। বৈদেশিক বাণিজ্য, প্রবাসী আয়, আমদানি-রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে ডলারের বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে ডলারের দৈনিক দর ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ গ্রাহক—অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, ব্রিটিশ পাউন্ডের কেনার হার ১৬২ টাকা ৬৭ পয়সা এবং বিক্রির হার ১৬২ টাকা ৯০ পয়সা। ইউরোর ক্ষেত্রে কেনার হার ১৩৮ টাকা ২৪ পয়সা, আর বিক্রির হার ১৩৮ টাকা ৪২ পয়সা। ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে শিক্ষা, ব্যবসা, ভ্রমণ কিংবা ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এসব হার প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
ভারতীয় রুপির দর তুলনামূলকভাবে অনেক কম। প্রতি রুপির কেনা ও বিক্রির হার উভয়ই ১ টাকা ২৮ পয়সা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও ব্যক্তিগত যাতায়াতের কারণে রুপির বিনিময় হারও বাংলাদেশের গ্রাহকদের কাছে নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ান ডলারের কেনার হার ৮৫ টাকা ৪২ পয়সা এবং বিক্রির হার ৮৫ টাকা ৫৭ পয়সা। সিঙ্গাপুর ডলারের ক্ষেত্রে এই হার যথাক্রমে ৯৫ টাকা ৯৮ পয়সা ও ৯৬ টাকা ১৮ পয়সা। চীনা ইউয়ানের কেনার হার ১৮ টাকা ৩২ পয়সা এবং বিক্রির হার ১৮ টাকা ৩৪ পয়সা। জাপানি ইয়েনের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটের কেনা ও বিক্রির হার ৭৮ পয়সা।
| মুদ্রা | কেনার হার (টাকা) | বিক্রির হার (টাকা) |
|---|---|---|
| মার্কিন ডলার | ১২২.৮৫ | ১২৩.০০ |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | ১৬২.৬৭ | ১৬২.৯০ |
| ইউরো | ১৩৮.২৪ | ১৩৮.৪২ |
| ভারতীয় রুপি | ১.২৮ | ১.২৮ |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার | ৮৫.৪২ | ৮৫.৫৭ |
| সিঙ্গাপুর ডলার | ৯৫.৯৮ | ৯৬.১৮ |
| চীনা ইউয়ান | ১৮.৩২ | ১৮.৩৪ |
| জাপানি ইয়েন | ০.৭৮ | ০.৭৮ |
মুদ্রার বিনিময় হার দৈনন্দিনভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। ব্যাংক, মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান ও লেনদেনের ধরন অনুযায়ী বাস্তবে গ্রাহক যে হার পাবেন, তা প্রকাশিত বা রেফারেন্স হারের সঙ্গে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। একই সঙ্গে কেনা ও বিক্রির হারের মধ্যকার পার্থক্যও প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা হতে পারে।
বিশেষ করে বিদেশে পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ, আমদানি-রপ্তানি কিংবা প্রবাসী আয় পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে মুদ্রার দর সরাসরি আর্থিক হিসাবকে প্রভাবিত করে। তাই বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ কার্যকর হার যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকাশিত ৫ অক্টোবর ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত মুদ্রাগুলোর মধ্যে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য সবচেয়ে বেশি এবং জাপানি ইয়েনের একক মূল্য সবচেয়ে কম। তবে মুদ্রার একক মূল্য দিয়ে কোনো দেশের অর্থনীতির শক্তি বা দুর্বলতা সরাসরি বিচার করা যায় না; প্রতিটি দেশের মুদ্রার একক ও প্রচলিত মূল্যমান আলাদা।



