ঢাকা: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রবাসী আয়, আমদানি-রপ্তানি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মুদ্রার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। প্রতিদিনের বাজার পরিস্থিতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা-সরবরাহ, আন্তর্জাতিক অর্থনীতির গতিপথসহ নানা কারণে এক মুদ্রার বিপরীতে অন্য মুদ্রার মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার নির্ধারিত বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে। এ হিসাবে এক মার্কিন ডলারের মূল্য ১২২ টাকা ৭২ পয়সা। একই দিনে এক ইউরোর বিনিময় হার ১৪০ টাকা ৬৬ পয়সা এবং এক ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য ১৬৩ টাকা ৯৯ পয়সা।
এ ছাড়া অস্ট্রেলীয় ডলারের দর ৮৭ টাকা ৩২ পয়সা, কানাডীয় ডলার ৮৭ টাকা ৪১ পয়সা এবং সিঙ্গাপুর ডলারের দর ৯৬ টাকা ১৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। চীনের ইউয়ান রেনমিনবির মূল্য ১৮ টাকা ৩৪ পয়সা। প্রতিবেশী ভারতের এক রুপির বিনিময় মূল্য ১ টাকা ২৮ পয়সা এবং শ্রীলঙ্কার এক রুপির মূল্য ২ টাকা ৬৯ পয়সা।
জাপানি ইয়েনের ক্ষেত্রে এক ইয়েনের মূল্য ৭৮ পয়সা। সুইডিশ ক্রোনার বিনিময় হার ধরা হয়েছে ১২ টাকা ৪৬ পয়সা।
২২ সেপ্টেম্বরের বিনিময় হার
| বৈদেশিক মুদ্রা | বাংলাদেশি টাকায় মূল্য |
|---|---|
| ইউএস ডলার | ১২২ টাকা ৭২ পয়সা |
| ইউরো | ১৪০ টাকা ৬৬ পয়সা |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | ১৬৩ টাকা ৯৯ পয়সা |
| অস্ট্রেলীয় ডলার | ৮৭ টাকা ৩২ পয়সা |
| জাপানি ইয়েন | ৭৮ পয়সা |
| কানাডীয় ডলার | ৮৭ টাকা ৪১ পয়সা |
| সুইডিশ ক্রোনা | ১২ টাকা ৪৬ পয়সা |
| সিঙ্গাপুর ডলার | ৯৬ টাকা ১৩ পয়সা |
| চীনা ইউয়ান রেনমিনবি | ১৮ টাকা ৩৪ পয়সা |
| ভারতীয় রুপি | ১ টাকা ২৮ পয়সা |
| শ্রীলঙ্কান রুপি | ২ টাকা ৬৯ পয়সা |
বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনে এসব মুদ্রার ব্যবহার একেক ক্ষেত্রে একেক রকম। ডলার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান লেনদেন মুদ্রা হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি, বৈদেশিক ঋণ, প্রবাসী আয় এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিশোধে এর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ডও ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাণিজ্য এবং আর্থিক লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ভারতীয় রুপি বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ও সীমান্তবর্তী অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
প্রবাসীদের পাঠানো অর্থও বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের একটি বড় উৎস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা নিয়মিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান, যা ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে টাকায় রূপান্তরিত হয়। রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়লে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহে স্বস্তি তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে। এর প্রভাব মুদ্রার বিনিময় হারেও পড়তে পারে।
অন্যদিকে আমদানিকারকদের জন্য বিনিময় হার সরাসরি ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত। বিদেশ থেকে পণ্য, জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল বা যন্ত্রপাতি আমদানির সময় সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রায় মূল্য পরিশোধ করতে হয়। ফলে কোনো বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার মান কমলে একই পরিমাণ পণ্য আমদানিতে বেশি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। আবার টাকা শক্তিশালী হলে সেই ব্যয় তুলনামূলক কম হতে পারে।
আন্তর্জাতিক হিসাব-নিকাশেও বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। একটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), মাথাপিছু আয়সহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচক আন্তর্জাতিক তুলনার সুবিধার্থে অনেক সময় মার্কিন ডলারে প্রকাশ করা হয়। ফলে বিনিময় হারের ওঠানামা শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরে একটি দেশের অর্থনৈতিক সূচকের উপস্থাপনাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে প্রকাশিত বিনিময় হারকে স্থির ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী দিনের বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক ও অন্যান্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে লেনদেনের হার ভিন্ন হতে পারে। চাহিদা-সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তন, আমদানি-রপ্তানি পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট মুদ্রার বৈশ্বিক গতিপথের কারণে হার পরিবর্তিত হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ২২ সেপ্টেম্বরের হার তাই নির্দিষ্ট সময়ের একটি রেফারেন্স হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রকৃত লেনদেনের সময় ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানে প্রযোজ্য হার ও শর্ত আলাদাভাবে যাচাই করতে হয়।


