পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান মামুনকে দলের সব পদ-পদবি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় বিএনপি সাংগঠনিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মঠবাড়িয়া পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন ফরাজী ও সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান মিজান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার কারণে মেহেদী হাসান মামুনকে বিএনপির সব পদ-পদবি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মঠবাড়িয়া পৌরসভা বিএনপি এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়ানোর পর আলোচনা
সম্প্রতি মেহেদী হাসান মামুনকে ঘিরে একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সামনে আসে। ভিডিওটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হলেও এর উৎস, ধারণের সময় ও স্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করাও সম্ভব হয়নি। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি মেহেদী হাসান মামুন কি না, সেটিও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। একইভাবে ভিডিওটি কোন পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছিল বা এর সঙ্গে বর্তমানে ওঠা অভিযোগের সম্পর্ক কী—সেসব বিষয়ও স্পষ্ট নয়।
এ কারণে যাচাই না হওয়া ভিডিও বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা না করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক পরিচয়সম্পন্ন কাউকে ঘিরে কোনো অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
শুধু ভিডিও নয়, একাধিক অভিযোগের কথা বিএনপির
মঠবাড়িয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান মিজান জানিয়েছেন, শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে নয়, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যমে একাধিক অভিযোগ ওঠার পর সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মেহেদী হাসান মামুনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে কেউ শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারবেন না।
মিজানুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সামনে আসার পর দলীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে বিএনপির সব পদ-পদবি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সাংগঠনিক পদ হারালেন মেহেদী হাসান
বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের ফলে মেহেদী হাসান মামুন মঠবাড়িয়া পৌর বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড ইউনিটের সাধারণ সম্পাদকসহ বিএনপির কোনো সাংগঠনিক পদে আর থাকছেন না। একই সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে পৃথক কোনো তদন্ত, আইনগত পদক্ষেপ বা আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানের তথ্য দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থার মধ্যেই নেওয়া হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ভিডিও বা অভিযোগ দ্রুত জনসমক্ষে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে ভিডিওটির ধারণের সময়, স্থান, উৎস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত না হলে সেটিকে ভিত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বিভ্রান্তিকর হতে পারে। মেহেদী হাসান মামুনকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির ক্ষেত্রেও এসব তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে স্থানীয় বিএনপির পক্ষ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হলেও মেহেদী হাসান মামুনের কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি ও দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়নি।



