খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৭ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ও রাজনৈতিক দলের আচরণবিধি সংশোধনের চূড়ান্ত সুপারিশ নির্ধারণে বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নির্বাচন ভবনে।
বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন চার নির্বাচন কমিশনার—আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং ইসি সচিব আখতার আহমেদসহ কমিশনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, আরপিও সংশোধনে প্রায় তিন ডজন ছোট-বড় সংশোধনী চূড়ান্ত হতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে যাচ্ছে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটে ভোটাধিকার সংক্রান্ত বিধান। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের আগেই প্রস্তাবিত আইন সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোও পর্যালোচনা করে যুক্ত করা হয়েছে সংশোধনীতে।
ভোটের প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহার যাতে না হয়, সেজন্য আচরণবিধিতে বিশেষ বিধিনিষেধ যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে কমিশন। সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, “এই বিধিনিষেধ আচরণবিধিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে, যাতে এআই ব্যবহার সুনিয়ন্ত্রিত থাকে এবং বিভ্রান্তিমূলক প্রচার ঠেকানো যায়।’
কমিশন জানিয়েছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যেসব বিষয়ে ঐক্যমত হবে, তা আরপিও সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা থাকবে।
সচিব আখতার আহমেদ জানান, কমিশন সভায় প্রস্তাবগুলো অনুমোদন দিলে তা আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ উইংয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং শেষে উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর সংশোধনীটি অধ্যাদেশ আকারে জারি হবে।
ইসি ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র স্থাপন নীতিমালা, বিদেশি ও স্থানীয় পর্যবেক্ষক নীতিমালা, গণমাধ্যম নীতিমালা এবং সীমানা আইন সংশোধন অধ্যাদেশ জারি করেছে।
সচিব জানান, আরও তিনটি আইন—নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান ও ইসি সচিবালয় আইন এখন ভেটিংয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ডিসেম্বরের শেষার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।
এতসব প্রস্তুতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের বৈঠক কমিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি আরপিও ও আচরণবিধির সংস্কার কার্যক্রমকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার দিকেই নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খবরওয়ালা/এমএজেড