বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) সাবেক প্যানেল মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক বাহারকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে তাঁর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে না পেয়ে ১৬ বছর বয়সী ছেলে বাফতিন আহমেদ জিহানকে ডিবি পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের দরগাবাড়ি সড়কের তিতুমীর লেনে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
আটক জিহান চলতি বছর বরিশাল জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেছে। তাঁর মা সাথী আক্তারের দাবি, স্বামী এনামুল হক বাহারকে ধরতে দুপুরে তাঁদের বাসায় ডিবি পুলিশের সদস্যরা অভিযান চালান। ওই সময় বাহার বাসায় ছিলেন না। তিনি জানান, রাজনৈতিক মামলাগুলোতে তাঁর স্বামী জামিনে রয়েছেন এবং এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রও পরিবারের কাছে রয়েছে। এরপরও পুলিশ তাঁর কিশোর ছেলেকে ধরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে কয়েকজন সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যকে জিহানকে টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায়। ভিডিওতে তাঁর মা সাথী আক্তারকে ছেলেকে আটকের ঘটনায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে পুলিশ একটি পিকআপে করে জিহানকে নিয়ে যায় বলে ভিডিওতে দেখা যায়।
সাথী আক্তার বলেন, তাঁর স্বামী জোহরের নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়েছিলেন। সেই সময় ডিবি পুলিশের সদস্যরা বাসায় এসে তাঁকে খুঁজতে থাকেন। বাহারকে না পেয়ে তাঁরা ছেলেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি পুলিশ সদস্যদের কাছে বাহার সব মামলায় জামিনে থাকার বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজ দেখানোর কথা বলেছিলেন বলেও দাবি করেন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে অনেকেই ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ভিডিওর দৃশ্য কিংবা পরিবারের অভিযোগের বাইরে পুলিশের অভিযানের পুরো প্রেক্ষাপট সম্পর্কে স্বাধীনভাবে সব তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে ডিবি পুলিশের বক্তব্য জানতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে জিহানকে কী কারণে আটক করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন, ২৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থেকে ডিবি একজন কিশোরকে আটক করেছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে ওই সময় পর্যন্ত কিশোরটিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়নি।
এনামুল হক বাহারের রাজনৈতিক ও আইনি পটভূমিও ঘটনাটির প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বিএনপির জেলা ও মহানগর কার্যালয় ভাঙচুরসহ চারটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সাম্প্রতিক ঘটনার ক্ষেত্রে বাহারকে গ্রেফতারের জন্য ডিবির অভিযান, তাঁর বাসায় উপস্থিত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ এবং পরে কিশোর জিহানকে আটকের অভিযোগ—সবকিছু নিয়েই এখন বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। তবে জিহানকে আটকের সুনির্দিষ্ট আইনগত কারণ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনাটির পূর্ণ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।


