ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে ‘প্রীতি গ্রুপ’-এর এফএনএফ কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
ডিইপিজেড ফায়ার স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয় ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো। ডিইপিজেড ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট এবং জিরাবো মডার্ন ফায়ার স্টেশন থেকে আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রথমে আগুনের বিস্তার ঠেকানোর পাশাপাশি কারখানার ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। শিল্পকারখানায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একাধিক ইউনিট একসঙ্গে কাজ করছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কারখানার বয়লার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসের তদন্তের পর স্পষ্ট হতে পারে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। একইভাবে আগুনে কারখানার কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর কারখানার ভেতরের পরিস্থিতি পরিদর্শন এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ডিইপিজেড ফায়ার স্টেশনের ডিউটি অফিসার ফারুক হোসেন জানান, বর্তমানে চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
আশুলিয়া দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হওয়ায় সেখানে পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজ করেন। ফলে অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনায় আগুন নেভানোর পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং আশপাশের স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
প্রাথমিকভাবে বয়লার বিস্ফোরণের কথা বলা হলেও, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, আগুনের পরিমাণ এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পেতে ফায়ার সার্ভিসের পরবর্তী প্রতিবেদন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।


