ইবিতে বিবস্ত্র করে র‌্যাগিংয়ের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি 

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইবিতে বিবস্ত্র করে র‌্যাগিংয়ের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) লালন শাহ হলের ১৩৬ নম্বর কক্ষে (গণরুমে) এক নবীন শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে র‌্যাগিংয়ের ঘটনার সত্যতা পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রশাসনের গঠিত পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি। গতকাল সোমবার (২২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রশাসনের একাধিক সুত্রে এই খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রশাসন ও হল সুত্র জানায়, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। সবগুলো অভিযোগের প্রমাণও পাওয়া গেছে। শাস্তি বাস্তবায়ন করার এখতিয়ার একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হওয়ায় শাস্তির ধরন এবং নিয়মানুযায়ী জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থী।

ইবিতে বিবস্ত্র করে র‌্যাগিংয়ের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

অভিযুক্ত শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মুদাচ্ছির খান কাফি এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মোহাম্মদ সাগর। তারা দুইজনই লালন শাহ হলের ১৩৬ নং কক্ষে গণরুমে থাকেন। এর আগে, গত ৭ ফেব্র“য়ারি রাতে লালন শাহ হলের ১৩৬ নম্বর কক্ষে ভুক্তভোগীকে ডাকেন অভিযুক্ত কাফি ও সাগর। এ সময় তাকে উলঙ্গ করে ব্রেঞ্চের ওপর দাড় করিয়ে রাখেন অভিযুক্তরা। এছাড়াও তাকে রড দিয়ে আঘাত করাসহ বেঞ্চের উপর দাঁড় করিয়ে রাখা, হাতে ঝুলিয়ে রাখা ও নাকে খত দেওয়ানো হয়। এছাড়াও ভুক্তভোগীকে তার বাবা-মা তুলে গালিগালাজ এবং উলঙ্গ অবস্থায় অশ্লীল ভিডিও দেখতে বাধ্য করা হয়।

 

ইবিতে বিবস্ত্র করে র‌্যাগিংয়ের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি 

 

তবে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ না দিলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশিত খবরের সুত্র ধরে শেখ রাসেল হলের তৎকালীন প্রোভস্ট অধ্যাপক ড. দেবাশীষ শর্মাকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি পৃথক ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে লালন শাহ হল কর্তৃপক্ষও।

 

google news
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটির একাধিক সুত্র জানায়, তদন্তে অভিযুক্ত দুজনের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত দুজনের অপরাধের মাত্রা ভিন্ন হওয়ায় মাত্রা উল্লেখ করে রমজানের ছুটির আগেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮/৯ পৃষ্ঠার এবং হল কর্তৃপক্ষের ৬ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এখন অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে প্রশাসন বিধি মোতাবেক অভিযুক্তদের শাস্তি নির্ধারণ করবে। লালন শাহ হল প্রশাসন গঠিত তদন্ত ‘কমিটির আহ্বায়ক ড. আলতাফ হোসেন বলেন, হল প্রশাসন কর্তৃক গঠিত কমিটির রিপোর্ট আজকে জমা দিয়েছি। অভিযুক্ত, ভুক্তভোগী, সাধারণ শিক্ষার্থী সবার সাক্ষাৎকার নিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোঃ আকতার হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে আমরা তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছি। বিষয়টির গোপনীয়তা থাকায় এ মুহূর্তে বিস্তারিত বলতে পারছি না। পরবর্তীতে প্রশাসনের কাছ থেকে সার্বিক বিষয়ে জানতে পারবেন। প্রশাসনের গঠিত তদন্ত’ কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. দেবাশীষ শর্মা বলেন, আমরা আমাদের মতো তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। প্রশাসনের সিদ্ধান্তের আগে আমরা তো এবিষয়ে কিছু বলতে পারি না। তদন্ত প্রক্রিয়ায় আমরা যা পেয়েছি তাই উল্লেখ করেছি। বাকি সিদ্ধান্ত প্রশাসন নিবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসান বলেন, তদন্ত’ কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদন উপাচার্য বরাবর পাঠানো হয়েছে। এরপর পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও দেখুন:

Tags :

নিউজ ডেস্ক | খবরওয়ালা বাংলা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।