খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে মাঘ ১৪৩২ | ১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই ইরান আগামী ফেব্রুয়ারিতে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌ মহড়া আয়োজন করতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মহড়াটিকে কূটনৈতিক ও সামরিক প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনী হিসেবে দেখছেন। ইরান এ মহড়ার মাধ্যমে কেবল সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করবে না, বরং নিজের আন্তর্জাতিক প্রভাবকে শক্তিশালী করার প্রতিক্রিয়াও জানাবে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ‘ম্যারিটাইম সিকিউরিটি বেল্ট’ নামের এই যৌথ নৌ মহড়ায় তিন দেশের নৌবাহিনী অংশগ্রহণ করবে। ইরানের নিয়মিত নৌবাহিনী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) নৌ ইউনিটগুলোর সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার জাহাজ এবং সহায়ক ইউনিট এই মহড়ায় অংশ নেবে।
মহড়াটি অনুষ্ঠিত হবে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে উত্তর ভারত মহাসাগরে, যেখানে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো বিভিন্ন নৌকৌশল, নিরাপত্তা চেক এবং সমুদ্র সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। ২০১৯ সালে ইরান প্রথমবারের মতো এই মহড়ার আয়োজন করেছিল এবং তার পর থেকে এটি মোট সাতবার সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি মহড়ায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলো তাদের সামরিক নীতি এবং কৌশলগত সক্ষমতা উন্নয়ন করেছে।
ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো সামরিক হামলা চালায়, তবে ইরানের প্রতিক্রিয়া “দ্রুত, শক্তিশালী এবং মারাত্মক” হবে। তবে তারা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, তেহরান কেবল তখনই আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, যখন তা হবে তাদের ভাষায় ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ এবং জোরপূর্বকহীন শর্তে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মহড়ার নাম | ম্যারিটাইম সিকিউরিটি বেল্ট |
| আয়োজনকারী দেশ | ইরান |
| অংশগ্রহণকারী দেশ | চীন, রাশিয়া, ইরান |
| ইরানি অংশগ্রহণকারী ইউনিট | ইরানি নৌবাহিনী, IRGC নৌ ইউনিট |
| অবস্থান | উত্তর ভারত মহাসাগর |
| প্রথম আয়োজন | ২০১৯ |
| মোট আয়োজন (বর্তমান পর্যন্ত) | ৭ বার |
| সময়কাল | ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি |
| প্রেক্ষাপট | তেহরান–ওয়াশিংটন উত্তেজনা বৃদ্ধি |
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহড়ার এই আয়োজন কেবল সামরিক মহড়া নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক মন্তব্য যে “একটি বিশাল নৌবহর ইরানের দিকে এগোচ্ছে” ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করেছে।
এছাড়া মহড়ার মাধ্যমে ইরান, চীন ও রাশিয়া সমুদ্র নিরাপত্তা, সহযোগিতা এবং সামুদ্রিক যোগাযোগের নতুন দিকনির্দেশ নির্ধারণ করবে। এই যৌথ মহড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি শক্তিশালী সংকেত হিসেবে কাজ করবে যে, ইরান এবং তার সহযোগী দেশগুলো তাদের নৌসামরিক কৌশল ও কূটনৈতিক অবস্থান দৃঢ়ভাবে রক্ষা করতে সক্ষম।