টানা লোকসানের কারণে প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হতে যাচ্ছে বগুড়ার আধুনিক সিনেমা হল ‘মধুবন সিনেপ্লেক্স’। আসন্ন ঈদুল ফিতরের দিন থেকে জনপ্রিয় অভিনেতা শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমা প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে পুনরায় দর্শকদের জন্য দরজা খুলবে এই হলটি। দীর্ঘ বিরতির পর প্রেক্ষাগৃহটি পুনরায় চালু হওয়ায় বগুড়ার চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর টানা লোকসান এবং দর্শকসংকটের কারণে ‘মধুবন সিনেপ্লেক্স’ বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ। বন্ধ হওয়ার পর কয়েক মাস হলটি কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে মালিকপক্ষ শুরু থেকেই জানিয়েছিলেন, সুযোগ ও অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে তারা আবার সিনেমা প্রদর্শন শুরু করতে চান।
মধুবন সিনেপ্লেক্সের মালিক আর এম ইউনুস রুবেল জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রেক্ষাগৃহ পরিচালনায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল। নিয়মিত দর্শক না থাকা, মানসম্মত সিনেমার অভাব এবং সিনেমা শিল্পের সামগ্রিক মন্দা—সব মিলিয়ে হলটি চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
তিনি বলেন, “মাসের পর মাস লোকসান গুনতে গুনতে আমরা বাধ্য হয়ে হলটি বন্ধ করেছিলাম। কিন্তু এই হলের সঙ্গে আমাদের পরিবারের আবেগ জড়িয়ে আছে। তাই সুযোগ পেলেই আবার চালু করার পরিকল্পনা ছিল।”
তার মতে, দেশের সিনেমা হলগুলো টিকিয়ে রাখতে হলে মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং প্রদর্শনের সুযোগ বাড়াতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশীয় চলচ্চিত্রের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের বিদেশি সিনেমা আমদানির সুযোগ বাড়াবে। এতে প্রেক্ষাগৃহগুলো আবারও দর্শকে ভরে উঠতে পারে।
বগুড়া একসময় দেশের অন্যতম সক্রিয় চলচ্চিত্র প্রদর্শন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কয়েক দশক আগে এই জেলাজুড়ে প্রায় ৩৮টি সিনেমা হল চালু ছিল। সময়ের পরিবর্তন, প্রযুক্তির বিস্তার, অনলাইন বিনোদনের জনপ্রিয়তা এবং চলচ্চিত্র শিল্পের সংকটের কারণে একে একে বেশিরভাগ প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন স্থানে মাত্র সাতটি সিনেমা হল সচল রয়েছে।
নিচের টেবিলে বগুড়া জেলার সিনেমা হলের পরিবর্তিত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | সংখ্যা |
|---|---|
| একসময় মোট সিনেমা হল | ৩৮ |
| বর্তমানে চালু হল | ৭ |
| বন্ধ বা ভেঙে ফেলা হয়েছে | ৩১ |
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন সিনেমা মুক্তি, আধুনিক প্রদর্শন প্রযুক্তি এবং দর্শকবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে পারলে প্রেক্ষাগৃহ সংস্কৃতি আবারও ফিরে আসতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে ঈদের দিনে ‘মধুবন সিনেপ্লেক্স’ পুনরায় চালু হওয়া শুধু একটি হলের পুনর্জাগরণ নয়; বরং বগুড়ার চলচ্চিত্র সংস্কৃতির জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় দর্শকদের আশা, নিয়মিত ভালো সিনেমা প্রদর্শনের মাধ্যমে এই প্রেক্ষাগৃহ আবারও আগের মতো জমজমাট হয়ে উঠবে।



