খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ ডোনিয়ামাল জানিয়েছেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিতে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অংশগ্রহণের যোগ্য অবস্থায় নেই। ফলে সরকার আপাতত বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের দিকেই ঝুঁকছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর ইরান পাল্টা হামলা চালালে পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়া ইরানের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।
ডোনিয়ামাল এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, “দেশের ওপর কয়েক মাসের ব্যবধানে দুটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সংঘাতে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশে গিয়ে খেলাধুলায় অংশ নেওয়া সম্ভব নয়। আমাদের দেশের নিরাপত্তা এবং জনগণের শোক বিবেচনায় সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা মানুষের ঐক্য ও আনন্দের প্রতীক হলেও, যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দায়সাধ্য নয়। দেশের জনগণ যখন উদ্বেগ ও শোকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, তখন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া নৈতিক ও বাস্তবিকভাবে সম্ভব নয়।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত বিশ্বকাপ আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে। সূচি অনুযায়ী ইরানের গ্রুপ পর্বের কয়েকটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
ইরানের সম্ভাব্য গ্রুপ পর্বের ম্যাচসূচি নিচের টেবিলে দেওয়া হলো—
| প্রতিপক্ষ দেশ | সম্ভাব্য ভেন্যু | ধাপ |
|---|---|---|
| নিউজিল্যান্ড | লস অ্যাঞ্জেলেস | গ্রুপ পর্ব |
| বেলজিয়াম | লস অ্যাঞ্জেলেস | গ্রুপ পর্ব |
| মিসর | সিয়াটল | গ্রুপ পর্ব |
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এর আগে জানিয়েছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে ইরান দলকে স্বাগত জানানো হবে এবং অংশগ্রহণে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। তবে ইরানের সর্বশেষ ঘোষণা এই আশ্বাসকে কার্যত শূন্যে পরিণত করেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের পাল্টা হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, সৌদি আরব, জর্ডান, কাতার ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোও হামলার কবলে পড়েছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজক ও কর্তৃপক্ষের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি অব্যাহত থাকলে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে যাবে। তবে কূটনৈতিক সমাধান ও পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা ফেরালে ইরানের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।