খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
রংপুরে ‘রেকটিফায়েড স্পিরিট’ পান করার ফলে গত তিন দিনে মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের। আরও দুজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা চলছেই। এই ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হাজিরহাট থানার ওসি আজাদ রহমান জানান, নিহতরা হলেন: বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মালেক এবং রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর বন্দর কলেজ পাড়ার প্রয়াত মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম।
এর আগে রোববার মধ্যরাতে বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরহাট এলাকায় এক মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে কয়েকজন রেকটিফায়েড স্পিরিট পান করেন। এতে তিনজন তখনই মারা যান এবং কয়েকজন অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
নিহতদের তালিকা নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| মৃত্যু তারিখ | নাম | বয়স | ঠিকানা | পিতার নাম |
|---|---|---|---|---|
| রোববার (১১ জানুয়ারি) | আলমগীর হোসেন | অজানা | বসন্তপুর, গোপালপুর, বদরগঞ্জ | আমিরুল ইসলাম |
| রোববার (১১ জানুয়ারি) | সোহেল মিয়া | অজানা | পূর্ব শিবপুর, গোপালপুর, বদরগঞ্জ | রফিকুল ইসলাম |
| রোববার (১১ জানুয়ারি) | জাননাত আলি | অজানা | সাহাপুর, সদর, রংপুর | অজানা |
| সোমবার (১২ জানুয়ারি) | মানিক চন্দ্র রায় | ৬০ | শিবের বাজার পশ্চিম হিন্দুপাড়া, সদর, রংপুর | অনিল চন্দ্র রায় |
| মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) | আব্দুল মালেক | অজানা | পূর্ব শিবপুর, গোপালপুর, বদরগঞ্জ | মহির উদ্দিন |
| মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) | রাশেদুল ইসলাম | অজানা | শ্যামপুর বন্দর কলেজ পাড়া, সদর, রংপুর | মোফাজ্জল হোসেন |
পুলিশ জানায়, এই ঘটনায় জয়নুল আবেদীন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, জয়নুল চোলাই মদ ও স্পিরিট বিক্রি করতেন। নিহতরা তার বাড়ি থেকে মদ কিনে পান করেছিলেন, পরে অসুস্থ হয়ে মারা যান।
রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইন বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা হোমিওপ্যাথিক চেম্বার থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে স্পিরিট তৈরি করছিলেন। নগরের একটি হোমিও চেম্বারে অভিযান চালানো হয়েছে এবং বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান অব্যাহত রাখছে।
বদরগঞ্জ ও হাজিরহাট থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার এবং সদর কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুল গফুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে অচিরেই ব্যাপক তদন্ত ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।