খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
কক্সবাজারের উখিয়া ও রামু উপজেলায় ঝটিকা মোটরসাইকেল শোডাউন এবং কর্মী সমাবেশকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর তোলপাড় শুরু হয়েছে। দুই উপজেলার পরপর ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর পর জেলা জুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ও আলোচনার ঝড় বইছে। উখিয়ায় অনুষ্ঠিত বিতর্কিত কর্মী সমাবেশের জের ধরে সরকারবিরোধী নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১১৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৬ জুলাই) সকালে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের স্বপ্নতরী পার্ক এলাকা থেকে একদল যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন শুরু করেন। বহরটি জোয়ারিয়ানালার দিকে অগ্রসর হতে হতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। দলটির দাবি, তারা ছাত্রলীগ রামু উপজেলা শাখার নেতাকর্মী। রামু উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক উদ্দিন মিশুক জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা অন্তত শতাধিক নেতাকর্মী এই মিছিলে অংশ নেন। মিছিলে অন্যান্য নেতাদের মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন সরওয়ার কাজল এবং সদস্য কাওসার সাকিব নেতৃত্ব দেন।
শোডাউনের আগের দিন অর্থাৎ শনিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই কর্মসূচির একটি আগাম বার্তা দেওয়া হয়েছিল। অবশ্য পুলিশ এই শোডাউনের টাইমিং নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার দাবি, সকাল থেকে রামু এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি থাকলেও ভিডিওতে স্পষ্ট আকাশ দেখা গেছে, যা কোনো পুরনো ভিডিও হতে পারে। তবে রামু উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নিশ্চিত করেছেন যে ঘটনাটি রোববারেরই।
এর আগে শনিবার দুপুরে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের নলবুনিয়া এলাকায় ছাত্রলীগের একটি কর্মী সমাবেশ আয়োজনের খবর ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিন বিকেলেই পালংখালী স্টেশন এলাকায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একত্র হয়ে ঝটিকা মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। মিছিল থেকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ এনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
উখিয়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার উখিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ বড়ুয়া। মামলার এজাহারে বলা হয়, পালংখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নলবুনিয়া এলাকায় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদের বাড়িতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকে মিলিত হন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালালে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে হলদিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মিলন বড়ুয়া (৪২) এবং আবু নাসের মোহাম্মদ ইমরান (২৪) নামে দুজনকে আটক করে পুলিশ। পরে এই দুজনের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ মোট ১১৪ জন এজাহারনামীয় এবং আরও ৫০-৬০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে।
মামলায় উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইমাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার কামাল পাশা এবং উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তারেক হোসেন মানিকসহ শীর্ষ নেতৃত্বকে আসামি করা হয়েছে।
উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটক দুজনকে ইতোমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মামলার পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।