খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মানোন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত ভিত্তি মজবুত করার অংশ হিসেবে শিক্ষকদের জন্য একটি নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে এই নীতিমালা তৈরির কাজ চূড়ান্ত করা হবে। এই নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি পে-স্কেলসহ অন্যান্য আর্থিক ও প্রশাসনিক আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা হবে।
রোববার (২৬ জুলাই) সিলেটে পিটিআইয়ের মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আরও উল্লেখ করেন, দেশের সার্বিক বাস্তব পরিস্থিতি এবং বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর শিক্ষাব্যবস্থার ইতিবাচক অভিজ্ঞতাগুলোকে কাজে লাগিয়ে সরকার এখন প্রাথমিক শিক্ষায় বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সিলেট অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট দূর করতে সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বিশেষ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা ও ঝরে পড়া রোধের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটি সফল হলে পুরো দেশজুড়ে পর্যায়ক্রমে এই পুষ্টিকর খাবার বিতরণ কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
শিক্ষা খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আরও কিছু উদ্যোগের কথা ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী:
বেসরকারি বিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণ: দেশের অনুমোদনহীন বা বিশৃঙ্খলভাবে চলা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত সরকারি নীতিমালার আওতায় নিয়ে আসার সুসংগঠিত পরিকল্পনা করছে সরকার।
চা-বাগানের প্রাথমিক শিক্ষা: সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন চা-বাগান এলাকায় থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খুব দ্রুতই এসব চা-বাগানের পাঠশালাগুলোতে পূর্ণাঙ্গভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার জোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় মনিটরিং ও শিক্ষক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে নতুন প্রত্যাশার সাথে খাপ খাইয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। আগামী মাসের মধ্যে নতুন নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিকে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।