সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত মসজিদের ইমাম হুমায়ুন আহমেদকে (৩০) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে তাকে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এমদাদ তার জামিন আবেদন নাকচ করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
একই দিন ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী আদালতে উপস্থিত হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় নিজের জবানবন্দি রেকর্ড করান।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া হুমায়ুন আহমেদ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের মধুরকান্দি গ্রামের ইছব আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেই সূত্রে একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় ও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিয়ের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিয়ে ইমাম তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। গোপনীয়তা রক্ষা করতে এবং ঘটনাটি কাউকে না জানাতে তিনি ধারালো চাকুর ভয় দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে চুপ থাকতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে একইভাবে আরও কয়েকবার তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় ওই তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দিলে হুমায়ুন সম্পর্ক অস্বীকার করেন এবং তরুণী ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে শুরু করেন। কোনো উপায় না দেখে গত ২৬ জুলাই ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি নথিভুক্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। আইনি নির্দেশনা পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাঘবের বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত ইমামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
আদালতের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, জামিন শুনানির সময় বিচারকের সামনে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবীই আইনি লড়াইয়ে অংশ নেননি। আদালতের জেনারেল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (জিআরও) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফরিদ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামির পক্ষে কোনো ওকালতনামা জমা না পড়ায় এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত জামিন না মঞ্জুর করেন।
এদিকে ইমাম হুমায়ুনের গ্রেফতারের পর তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কিছু অনুসারী ভিন্ন দাবি করেছেন। তাদের মতে, এটি একটি সাজানো ঘটনা এবং হুমায়ুনকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং হুমায়ুনের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর জবানবন্দি ও শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করেই মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।



