খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৪৩ পিএম
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিল করার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা।
শাহজাদপুর থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত প্রায় ৯টার দিকে পৌর এলাকার নলুয়া গ্রামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি মিছিল বের হয়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় চারজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—পৌর শহরের নলুয়া উত্তরপাড়া এলাকার মো. আব্দুস সালাম সরদারের ছেলে মো. ইয়ামিন সরদার, মো. আব্দুল খালেকের ছেলে মো. তাওহীদ ইসলাম, নলুয়া মধ্যপাড়া গ্রামের মো. শুকুর আলীর ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম এবং মো. মুকদুম সরদারের ছেলে মো. জয়।
পুলিশের দাবি, নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে প্রকাশ্যে মিছিল বের করার ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে। খবর পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রুজু করা হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নিয়মিত নজরদারি ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নামে কোনো ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম বা জনসমাগমের খবর পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতের ঘটনাতেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতার হওয়া চারজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়েরের পর বুধবার দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, কোনো সংগঠন নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পর সেই সংগঠনের নামে প্রকাশ্যে কর্মসূচি, মিছিল বা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় ব্যবস্থা নিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার ঘটনাও দেখা গেছে। পুলিশ বলছে, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তাদের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য