খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই আগস্ট ২০২৬, ২:৫৮ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি ও গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। বুধবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রাজধানীর গুলশান এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৭৩ বছর বয়সী এই সাবেক আইনপ্রণেতাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে। সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল ‘আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে’ পুনরায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগেই প্রধানত এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
রাজনৈতিক জীবনে আখতারুজ্জামান বাংলাদেশের ছাত্র ও জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত এবং আলোচিত এক নাম। সত্তর ও আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে তিনি বেশ প্রভাবশালী ভূমিকা রাখেন। ১৯৭৯ ও ১৯৮০ সালে তিনি পরপর দুই মেয়াদে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন। সে সময় তাঁর সঙ্গে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মাহমুদুর রহমান মান্না। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের ডাকসু নির্বাচনে আখতারুজ্জামান সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে জয়লাভ করেন; সে মেয়াদে তাঁর সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু।
ছাত্র রাজনীতির পাঠ চুকিয়ে তিনি মূল ধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। কেন্দ্রীয় রাজনীতি ছাড়াও স্থানীয় সরকার কাঠামোতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল; তিনি গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন।
পরবর্তীতে সংসদীয় রাজনীতিতে আখতারুজ্জামান পুনরায় আলোচনায় আসেন ২০২৪ সালের বিতর্কিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই নির্বাচনে তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগের মূল দলীয় প্রার্থী মেহের আফরোজ চুমকিকে পরাজিত করে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।
পুলিশের তথ্যমতে, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাগুলোর তদন্ত এবং তাঁর সাম্প্রতিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে ডিবি পুলিশ অবশেষে এই গ্রেপ্তারি অভিযান শেষ করে। বর্তমানে তাঁকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে।
মন্তব্য