খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ১:৩৭ পিএম
যশোরের চৌগাছায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন ও তৈরি সংক্রান্ত সহায়তার আশ্বাস দিয়ে এক দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর পরিবারের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত আরাফাত হোসেন রাব্বিকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে চৌগাছা থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত রাব্বি চৌগাছা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
পুলিশ ও ঘটনার লিখিত এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত জরুরি কাজের ব্যাপারে প্রতিবেশী সম্পর্কের আত্মীয় (মামাতো ভাই) রাব্বির কাছে সহযোগিতা চান। ঘটনার দিন শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় উপজেলা নির্বাচন অফিসের দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। তবে এ বিষয়ে আগে থেকে অবগত থাকা সত্ত্বেও রাব্বি ওই ছাত্রীকে কাজ করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে তাঁকে নিয়ে চৌগাছা শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পরবর্তীতে নির্বাচন অফিস বন্ধ থাকার কথা জানিয়ে ও নানা অজুহাতে ভুক্তভোগীকে ভুল বুঝিয়ে চৌগাছা পৌরসভার আওতাধীন এক পরিচিত ব্যক্তির জনশূন্য বাসায় নিয়ে যান অভিযুক্ত রাব্বি। সেখানে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তাঁকে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফেলে রেখে স্থান ত্যাগ করা হয়। পরবর্তীতে মারাত্মক শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় ওই তরুণী নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন এবং অভিভাবকের কাছে নিজের ওপর ঘটে যাওয়া নৃশংসতার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।
মেয়ের কাছে ঘটনা শোনার পরপরই পরিবারের সদস্যরা কালক্ষেপণ না করে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে চৌগাছা থানায় উপস্থিত হন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চৌগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে এবং অভিযুক্ত আরাফাত হোসেন রাব্বিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার সত্যতা ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ের নিশ্চিত করে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ জানান, ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত লিখিত এজাহারের ভিত্তিতেই মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী ছাত্রীর শারীরিক পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারত্বের সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
মন্তব্য