খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ১:১৭ পিএম
দিনাজপুরের বিরলে সাবেক স্বামীর প্রতিশোধপরায়ণতা ও নৃশংসতার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন সুমাইয়া আক্তার শ্যামলী (২৫) নামের এক অসহায় গৃহবধূ। বিবাহবিচ্ছেদের জেরে ধরে গভীর রাতে বাবার বাড়িতে ঢুকে প্রাক্তন স্ত্রীর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় তার সাবেক স্বামী মাহবুবুর রহমান (৫১)। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় রংপুর নিয়ে যাওয়ার পথে শ্যামলীর মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে ঘাতক সাবেক স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ৭ নম্বর বিজোড়া ইউনিয়নের বিজোড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন শ্যামলী। নিহত তরুণী বিজোড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের কন্যা। অভিযুক্ত ঘাতক মাহবুবুর রহমান রংপুরের কোতোয়ালি থানাধীন লালবাগ এলাকার বাসিন্দা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দাম্পত্য কলহের জের ধরে প্রায় দুই মাস আগে মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে সুমাইয়া আক্তার শ্যামলীর আইনিভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটানোর পর শ্যামলী তার বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং সেখানেই অবস্থান করছিলেন। তবে বিবাহবিচ্ছেদের বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি সাবেক স্বামী মাহবুবুর।
শনিবার রাতে পরিকল্পিতভাবে জ্বালানি পেট্রোল ও লাইটার সঙ্গে নিয়ে বিজোড়া গ্রামে শ্যামলীর বাবার বাড়িতে চড়াও হন মাহবুবুর রহমান। রাত ১১টার দিকে তিনি জোরপূর্বক ঘরের ভেতর প্রবেশ করেন এবং আকস্মিকভাবে শ্যামলীর শরীরে পেট্রোল ছিটিয়ে লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে শ্যামলীর পুরো শরীরে আগুন ধরে যায়। মারাত্মক যন্ত্রণায় তার আত্ম চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ও প্রতিবেশীরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে মাহবুবুর এলাকা থেকে সটকে পড়েন।
দগ্ধ ও মুমূর্ষু অবস্থায় প্রতিবেশীরা শ্যামলীকে উদ্ধার করে প্রথমে দ্রুত দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শরীরের সিংহভাগ পুড়ে যাওয়ায় ও আশঙ্কাজনক অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তবে রংপুর নিয়ে যাওয়ার পথেই শ্যামলীর জখম অত্যন্ত মারাত্মক রূপ নেয় এবং তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। রাত আনুমানিক ৪টার দিকে তাকে পুনরায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফিরিয়ে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে। নৃশংস এই ঘটনার খবর পেয়ে বিরল থানা পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে এবং রাতে হামলা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়া অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমানকে গ্রেফতার করে।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান সরকার জানান, সাবেক স্বামীর ছোঁড়া পেট্রোলের আগুনে দগ্ধ হয়ে ওই গৃহবধূর করুণ মৃত্যু হয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘাতক মাহবুবুরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য