এনবিআরের নামে আটজনের নিয়োগপত্র জাল, চাকরিপ্রার্থীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নামে আটজনকে ‘অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক’ পদে নিয়োগ দেওয়ার একটি পত্র জাল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। নিয়োগপত্রে ব্যবহৃত তথ্য, স্মারক নম্বর ও স্বাক্ষর ভুয়া। সরকারি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো নিয়োগপত্র প্রকাশ করা হয়নি বলে জানিয়েছে এনবিআর। এ ঘটনায় সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা আলামিন শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘৮ জনের নামে তৈরি করা নিয়োগপত্রটি ভুয়া।’

এনবিআরের নামে প্রচারিত নিয়োগপত্রটি ঘিরে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সরকারি চাকরির প্রত্যাশীরা যখন দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও অপেক্ষার পর নিয়োগের সুযোগ খোঁজেন, তখন এ ধরনের জাল নথি তাঁদের আর্থিক ক্ষতি ও ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

নিয়োগপত্রে যা উল্লেখ রয়েছে

জাল নিয়োগপত্রটিতে ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আটজন প্রার্থীকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ‘অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক’ পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পদটির জন্য জাতীয় বেতন স্কেলের ১৬তম গ্রেড উল্লেখ করে বেতন ২১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে।

নিয়োগপত্রে প্রার্থীদের আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে এনবিআরের বোর্ড প্রশাসন শাখায় যোগদান করতে বলা হয়েছে। ফলে নথিটি দেখে চাকরিপ্রার্থীদের একটি অংশ এটিকে প্রকৃত নিয়োগপত্র বলে মনে করতে পারেন। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম, পদবি কিংবা বেতনের তথ্য উল্লেখ থাকলেই কোনো নথির সত্যতা নিশ্চিত হয় না।

পত্রটিতে সরকারি দপ্তরের নাম ও ঠিকানার পাশাপাশি ওয়েবসাইট, স্মারক নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া আটজন প্রার্থীর নাম, রোল নম্বর, বাবা-মায়ের নাম এবং স্থায়ী ঠিকানাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব তথ্যের উপস্থিতি নথিটিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিলেও এনবিআর স্পষ্ট করেছে, নিয়োগপত্রটি আসল নয়।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি করা এ ধরনের নথি চাকরিপ্রার্থীদের বিভ্রান্ত করতে পারে। বিশেষ করে নিয়োগের সময়সীমা উল্লেখ করে দ্রুত যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হলে প্রার্থীরা যাচাইয়ের সুযোগ না নিয়েই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন। তাই নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পর তাড়াহুড়া না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি।

জাল নিয়োগপত্র শনাক্তে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

সরকারি চাকরির নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সাধারণত নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তি, আবেদনসংক্রান্ত তথ্য, পরীক্ষার ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাই কোনো নিয়োগপত্র পাওয়ার পর সেটির সঙ্গে পূর্বপ্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগপ্রক্রিয়ার তথ্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

শুধু সরকারি লোগো, স্মারক নম্বর, কর্মকর্তার নাম কিংবা স্বাক্ষর দেখে নথির সত্যতা নির্ধারণ করা নিরাপদ নয়। জালিয়াতির উদ্দেশ্যে এসব পরিচিতি নকল করে ব্যবহার করা হতে পারে। কোনো তথ্য নিয়ে সন্দেহ থাকলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া উচিত।

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য কয়েকটি সতর্কতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—

  • নিয়োগের তথ্য যাচাই: সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সঙ্গে নিয়োগপত্রের তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে।

  • সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ: নিয়োগপত্রের স্মারক নম্বর, তারিখ, পদবি ও যোগদানের নির্দেশনা সম্পর্কে দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখার কাছে জানতে হবে।

  • অর্থ লেনদেনে সতর্কতা: নিয়োগ নিশ্চিত করা, যোগদান ত্বরান্বিত করা কিংবা নথি যাচাইয়ের নামে কেউ টাকা চাইলে সতর্ক থাকতে হবে।

  • ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা: সত্যতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাবের তথ্য কিংবা অন্যান্য সংবেদনশীল নথি দেওয়া উচিত নয়।

  • সন্দেহজনক নথি সংরক্ষণ: কোনো নিয়োগপত্র জাল বলে সন্দেহ হলে সেটির কপি, প্রেরকের পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করা যেতে পারে।

যাচাই ছাড়া সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ

এনবিআরের নামে প্রচারিত জাল নিয়োগপত্রের ঘটনাটি সরকারি চাকরির নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার চেষ্টা করা হলে তাঁরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য হারানোর ঝুঁকিতেও পড়তে পারেন।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিয়োগপত্রে উল্লেখ করা যোগদানের তারিখ বা নির্দেশনা দেখে তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের মাধ্যমে সত্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনানুষ্ঠানিক সূত্রে পাওয়া নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য যাচাই ছাড়া অন্যদের কাছে প্রচার না করাও গুরুত্বপূর্ণ।

এনবিআরের বক্তব্য অনুযায়ী, আটজনের নামে তৈরি করা নিয়োগপত্রটি ভুয়া। ফলে ওই নথির ভিত্তিতে যোগদানের প্রস্তুতি নেওয়া বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার আগে সতর্ক থাকা জরুরি। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ এবং তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করাই সম্ভাব্য প্রতারণা এড়ানোর সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।