ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরুর আগেই বাংলাদেশ শিবিরে দেখা দিয়েছে কিছুটা উদ্বেগ। প্রথম টেস্টের ঠিক আগের দিন অনুশীলনে চোট পেয়েছেন দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। অন্যদিকে, চোট কাটিয়ে দলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাসের ফিটনেস নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে ২৮ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারের খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন চলাকালে হাতে আঘাত পান মুশফিক। নেট সেশনে ব্যাটিং করার সময় এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার চোটে পড়েন। আঘাত পাওয়ার পর মাঠেই তাঁর হাতে বরফ দেওয়া হয়। পরে অনুশীলন অসমাপ্ত রেখেই মাঠ ছাড়েন তিনি।
মুশফিকের চোট কতটা গুরুতর, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে প্রথম টেস্টে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে মুশফিকের অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতার গুরুত্ব বিবেচনায় তাঁর শারীরিক অবস্থা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে মুশফিকের খেলা নিয়ে এখনই নেতিবাচক কিছু ভাবতে রাজি নন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তাঁর বক্তব্যে আপাতত কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অধিনায়ক জানিয়েছেন, মুশফিকের প্রথম টেস্টে খেলতে না পারার মতো কোনো পরিস্থিতির কথা তিনি শোনেননি।
শান্ত বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ঠিক আছে। এমন কিছু শুনিনি যে খেলতে পারবে না।’
অধিনায়কের এই বক্তব্যে মুশফিকের খেলার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চোটের প্রকৃতি, ব্যথার মাত্রা এবং ম্যাচের আগে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি কেমন হয়, সেটিই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। দলের মেডিকেল বিভাগের মূল্যায়ন ও ব্যবস্থাপনার ওপরও নির্ভর করবে তাঁর মাঠে নামার বিষয়টি।
লিটনের ফিটনেস নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাকি
মুশফিকের চোটের পাশাপাশি বাংলাদেশ দলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার বিষয় লিটন দাসের ফিটনেস। চোট কাটিয়ে ফেরার প্রক্রিয়ায় থাকা এই উইকেটকিপার-ব্যাটার মঙ্গলবার অনুশীলনে ব্যাটিং ও কিপিং—দুই বিভাগেই অংশ নিয়েছেন। এটি তাঁর প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক দিক হলেও, পুরোপুরি ম্যাচ খেলার উপযোগী হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
লিটনের ফিটনেস নিয়ে দলের ফিজিও ও ট্রেনারের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন তখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন শান্ত। অধিনায়কের ভাষ্য অনুযায়ী, লিটন সকালে ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছেন এবং অনুশীলনেও স্বাভাবিকভাবে অংশ নিয়েছেন। তবে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেই তাঁকে একাদশে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শান্ত বলেন, ‘লিটন সকালেও ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছে। এখনো ভালো আছে। ফিজিও-ট্রেনার এখনো রিপোর্ট দেয়নি। সব ঠিকঠাক থাকলে খেলবে। এখনো শতভাগ রিপোর্ট পাইনি। যদিও প্র্যাকটিসে ব্যাটিং-কিপিং সবই করেছে।’
লিটনের ক্ষেত্রে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটকিপিং করার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ম্যাচের দীর্ঘ সময় উইকেটের পেছনে দায়িত্ব পালন করতে শারীরিক সক্ষমতা ও মনোযোগ—দুটিই প্রয়োজন। অনুশীলনে দুই বিভাগেই অংশ নেওয়া আশাব্যঞ্জক হলেও, সেটিকে পূর্ণ ম্যাচ ফিটনেসের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ কারণেই মেডিকেল ও ফিটনেস দলের মূল্যায়নের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ শিবির।
প্রথম টেস্টে অভিজ্ঞদের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় সিরিজে ভালো ফল অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি ম্যাচে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখানোর প্রয়োজন রয়েছে। নিজেদের মাঠে সিরিজের শুরুটা ভালো করতে চাইবে বাংলাদেশ দল।
এমন পরিস্থিতিতে মুশফিক ও লিটনের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপস্থিতি দলের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। মুশফিক দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের টেস্ট ব্যাটিংয়ের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মুখ। চাপের পরিস্থিতিতে ইনিংস সামলানো এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রান তোলার অভিজ্ঞতা তাঁকে দলের জন্য মূল্যবান করে তুলেছে। অন্যদিকে, লিটন ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তাঁর ফিটনেসের বিষয়টি দলের একাদশ নির্বাচনে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে চোটের ঝুঁকি এড়িয়ে খেলোয়াড়দের মাঠে নামানোও দলের জন্য জরুরি। ম্যাচের আগে কোনো ক্রিকেটার পুরোপুরি সুস্থ না হলে তাঁকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া পরবর্তী ম্যাচগুলোর প্রস্তুতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। সে কারণে মুশফিক ও লিটনকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে টিম ম্যানেজমেন্টকে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রথম টেস্টের আগে এখন মূল নজর দুই ক্রিকেটারের শারীরিক অবস্থার দিকে। মুশফিকের চোটের প্রকৃত অবস্থা এবং লিটনের ফিটনেস পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই তাঁদের খেলার বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। অধিনায়ক শান্ত আপাতত আশাবাদী থাকলেও, শেষ পর্যন্ত দুজনই একাদশে থাকবেন কি না, তা নির্ভর করছে ম্যাচের আগে তাঁদের ফিটনেস মূল্যায়নের ওপর।


