এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

মাত্র ১০৩ রানের পুঁজি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই সংগ্রহকে মোটেও নিরাপদ বলা যায় না। তার ওপর রান তাড়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের শুরুটাও ছিল আশাব্যঞ্জক। একপর্যায়ে বাংলাদেশের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল স্বাগতিক দলটি। তবে চাপের মুহূর্তে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে সেই শঙ্কা আর দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। শেষ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩৪ রানে হারিয়ে নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ।

এই জয়ে টুর্নামেন্টের শেষ চারে বাংলাদেশের জায়গা নিশ্চিত হয়েছে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর প্রথম সেমিফাইনালে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হবে টাইগ্রেসরা। পরদিন দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লড়বে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। অর্থাৎ ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ ভারত।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে অবশ্য ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল না। ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি দল। শুরুতেই কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ১০৩ রানে ইনিংস থামার পর তাই বোলারদের ওপরই মূল দায়িত্ব এসে পড়ে।

সেই দায়িত্ব দারুণভাবেই সামলেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। রান তাড়া করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সংযুক্ত আরব আমিরাত। রাবেয়া খাতুন ও মারুফা আক্তারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপ ছন্দ খুঁজে পায়নি। মাত্র ৩৮ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয় তারা।

এরপরও ম্যাচে ফেরার সুযোগ ছিল আরব আমিরাতের। কিন্তু বাংলাদেশের বোলাররা সেই সুযোগ দেননি। হেনা সর্বোচ্চ ১৮ রান করেন। তীর্থ সতীশের ব্যাট থেকে আসে ১১ রান। দলের আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারের আগেই ৬৯ রানে অলআউট হয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। ফলে ৩৪ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

বল হাতে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন রাবেয়া খাতুন। ১৪ রান খরচ করে তিনি তুলে নেন ৩ উইকেট। মারুফা আক্তার ও নাহিদা আক্তার নেন দুটি করে উইকেট। তাঁদের সম্মিলিত বোলিংয়ের সামনে আরব আমিরাতের ব্যাটাররা কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন।

এর আগে বাংলাদেশের ইনিংসে একমাত্র উল্লেখযোগ্য অবদান আসে শারমিন আক্তারের ব্যাট থেকে। দলের কঠিন সময়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ৩১ বলে ৩৮ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি বাউন্ডারি। শারমিনের এই লড়াকু ইনিংসই মূলত বাংলাদেশকে ১০০ রানের গণ্ডি পার হতে সাহায্য করে।

অধিনায়ক জ্যোতির ব্যাট থেকেও আসে গুরুত্বপূর্ণ ২৩ রান। এ ছাড়া জুয়াইরা ফেরদৌস ও নাহিদা আক্তার করেন ১৬ রান করে। অন্যদের কাছ থেকে বড় ইনিংস না আসায় বাংলাদেশের সংগ্রহ বড় হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই ১০৩ রানই যথেষ্ট প্রমাণিত হয়েছে।

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের বিপরীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বোলারদের মধ্যে সুরক্ষা কোতে ছিলেন সবচেয়ে সফল। ১১ রান দিয়ে তিনি বাংলাদেশের ৩টি উইকেট নেন। ইন্ধুজা নন্দকুমার পান দুটি উইকেট। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে শুরু থেকেই চাপ তৈরি করতে সক্ষম হলেও সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিক দল।

১০৩ রানের ছোট লক্ষ্য রক্ষা করে বাংলাদেশের এই জয় টুর্নামেন্টের পরের ধাপের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো। বিশেষ করে সীমিত পুঁজিকে বোলিং দিয়ে রক্ষা করার সক্ষমতা দলটির শক্তির জায়গাগুলোকে সামনে এনেছে। এখন অবশ্য অপেক্ষা আরও কঠিন পরীক্ষার। সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ব্যাটিং-বোলিং—দুই বিভাগেই আরও পরিণত ক্রিকেট খেলতে হবে বাংলাদেশকে।

সেমিফাইনালের সূচি

১০ সেপ্টেম্বর: বাংলাদেশ বনাম ভারত
১১ সেপ্টেম্বর: পাকিস্তান বনাম শ্রীলঙ্কা

Tags :

মুরসালিন মাহমুদ তাইসিন | উপ-সম্পাদক | খবরওয়ালা বাংলা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।