খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২২ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে আসার আগে ওয়াশিংটন ডিসি ছিল ‘সবচেয়ে অনিরাপদ শহর’, এমন মন্তব্য করেছেন তিনি, যা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে হতবাক করেছে। এই ঘটনার ভিডিও ও উদ্ধৃতিগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের কয়েক দিন পর ওভাল অফিসে জেলেনস্কির সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন,‘আমরা সবচেয়ে অনিরাপদ জায়গা থেকে এমন এক জায়গায় এসেছি, যেখানে এখন দেশের মানুষ এবং আমার বন্ধুরা আমাকে ফোন করছে; ডেমোক্র্যাটরাও আমাকে ফোন করে বলছে, স্যার, আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি আর আমার স্ত্রী চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো গত রাতে বাইরে খেতে গিয়েছিলাম। ওয়াশিংটন ডিসি এখন নিরাপদ।’
ট্রাম্পের এই কথায় জেলেনস্কি বেশ অবাক হন। ট্রাম্প আরও বলেন, তাঁর এক বন্ধুর ছেলে, যিনি পেশাদার গলফার, দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাইরে খেতে যেতে পারেননি। এখন সে নিরাপদে রেস্টুরেন্টে যেতে পারছে।
ট্রাম্প নিজের এই কৃতিত্বের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমার আরেক বন্ধু আছে। তার ছেলে একজন দুর্দান্ত গলফার। সে ট্যুরে আছে এবং গতকাল বড় টুর্নামেন্টে চতুর্থ স্থান পেয়েছে, যেখানে স্কটি শেফলার একটি অসাধারণ শট মেরেছিল। আমার বন্ধুটি বলল, তার ছেলে আজ রাতে ওয়াশিংটন ডিসিতে খেতে যাচ্ছে।’
৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প বলেন, ‘বন্ধুর ছেলে তার বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিল, এক বছর আগে হলে কি বাইরে ডিনারে যেতে দিতেন? সে বলেছিল, কখনোই না। তারপর সে আমাকে বলে, তুমি যা করেছ, তা অবিশ্বাস্য। মানুষ এখন তা বুঝতে পারছে।’
বৈঠকে ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমের সমালোচনাও করেন এবং অভিযোগ করেন যে, তাঁকে একনায়ক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘না, আমি যা চাই তা হলো জনগণের নিরাপত্তা। যারা গত দুই বছর ওয়াশিংটন ডিসিতে বাইরে রাতের খাবার খেতে পারেনি, তারা এখন রেস্টুরেন্টে যাচ্ছে। গত দুই দিনে রেস্টুরেন্টগুলো অনেক দিন পর এত ভিড় দেখেছে।’
অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসি সফর করেন। তিনি জানান, শহরে সেনা ও পুলিশ কিছুদিন অবস্থান করবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এই শহরকে নিরাপদ করে তুলব। তারপর অন্য জায়গাগুলোতে যাব। তবে আপাতত আমরা (সেনা ও পুলিশ) এখানে কিছুদিন থাকব। আমরা চাই, বিষয়টি পুরোপুরি নিখুঁত হোক।’
এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টদের মধ্যে বৈঠকের চেষ্টা করছেন, যাতে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের অবসান ঘটানো যায়। হোয়াইট হাউসে ইউরোপীয় নেতা ও জেলেনস্কির সঙ্গে ‘খুব ভালো’ বৈঠকের পর তিনি ফোনে পুতিনের সঙ্গে কথা বলেন।
ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বৈঠকগুলো শেষে আমি প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে কথা বলি এবং পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে একটি বৈঠকের ব্যবস্থা শুরু করি, যার স্থান পরে নির্ধারণ করা হবে।’
খবরওয়ালা/শরিফ