কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ২২৪, নিখোঁজ হাজারো

লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ২২৪ জনের মৃত্যুর নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। ধসে পড়া হাজার হাজার ঘরবাড়ি ও বহুতল ভবনের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে কলম্বিয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যাপিটাল সিটিস প্রথম দফায় ১৬৫ জন মারা যাওয়ার বার্তা নিশ্চিত করে। এর কিছুক্ষণ পরেই দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কালি থেকে আরও ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর পর আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২৪ জনে পৌঁছানোর খবর নিশ্চিত করে।

সোমবারে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এই ভয়াবহ ভূমিকম্পটিকে বিশেষজ্ঞরা ‘দশকে একবার ঘটা’ মারাত্মক প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। এটি সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে পাহাড়ি ও দুর্গম চোকো প্রদেশে। ভৌগোলিক বিস্তৃতির কারণে এই ভূকম্পন কেঁপে উঠেছে রাজধানী বোগোতাসহ দেশের প্রায় প্রতিটি জনবহুল ও বাণিজ্যিক শহর। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য মতে, দুর্ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৭০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণ করা হচ্ছে, ধসে পড়া ইট-কনক্রিটের স্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন তাঁদের বড় অংশ।

অবস্থা সামাল দিতে দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলারদো দে লা এসপ্রিল্লা দ্রুততম সময়ে দেশজুড়ে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ ঘোষণা করেছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে গত শুক্রবার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মাথায় এমন কঠিন সংকটের মুখোমুখি হলেন তিনি। উদ্ধার তৎপরতা ত্বরান্বিত করতে সিভিল ডিফেন্স, সেনা সদস্য ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের দুর্গম এলাকায় পাঠানো হয়েছে। উদ্ভূত মানবিক বিপর্যয়ে পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে ত্রাণ ও উদ্ধার সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ভৌগোলিক চিত্রে দেখা যায়, পশ্চিম কলম্বিয়ার অন্যতম ব্যস্ত শহর ক্যালি, পেরেইরা, কুইবদো ও মানিজালেসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ পানামা এবং ইকুয়েডরের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূকম্পনটির কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার এলাকা। এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে উৎপত্তি লাভ করে। মূল কম্পনের পর পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ২১টি ছোট-বড় আফটারশক পুরো অঞ্চলকে বারবার কাঁপিয়ে তোলে, যা উদ্ধারকাজ চরমভাবে ব্যাহত করছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।