ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তঃনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্যান্টিনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের পাকশী রেলওয়ে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ।
বুধবার দুপুর ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল উদ্দীন। তিনি জানান, ঘটনার সময় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে দায়িত্ব পালন করা চার পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পাকশী রেলওয়ে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে ঢাকার উদ্দেশে নয়, ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের দিকে যাত্রা করা কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ওই নারী ভ্রমণ করছিলেন। নাটোর এলাকায় ট্রেনটি চলন্ত অবস্থায় থাকার সময় তাঁকে ক্যান্টিনে নিয়ে যাওয়ার পর ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্যান্টিন বয় আবু বক্কর সিদ্দিকসহ কয়েকজন ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারীর চিৎকার শুনতে পান ট্রেনের অন্য যাত্রীরা। তারা ক্যান্টিনের দিকে এগিয়ে গিয়ে আবু বক্কর সিদ্দিককে আটক করেন। পরে তাঁকে রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী নিজেই বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্যের নাম রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
মামলার পর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ক্যান্টিন বয় আবু বক্কর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে সান্তাহার রেলওয়ে থানা-পুলিশ। ২২ বছর বয়সী আবু বক্কর নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের মৃত মাসুদ রানার ছেলে। মঙ্গলবার সকালে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে ঘটনার সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময় কোনো পুলিশ সদস্য ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন কি না, কিংবা তাঁরা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনোভাবে সহায়তা করেছেন কি না—তদন্তে এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি দুলাল উদ্দীন বলেন, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সদস্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সময় ট্রেনে দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে অন্য আসামিদের ভূমিকা এবং ঘটনার সঙ্গে তাঁদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার বিষয়ও যাচাই করা হচ্ছে।
চলন্ত ট্রেনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের অভিযোগ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে দীর্ঘপথের আন্তঃনগর ট্রেনে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে অভিযোগের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই হবে।


