ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে সাড়ে চার বছরের দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করলেও ইংলিশ ক্লাবটির জার্সিতে মাত্র একটি ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন ক্লাউদিও এচেভেরি। নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ না পাওয়ায় এই সময়ের একটি বড় অংশ তাঁকে জার্মানি ও স্পেনের বিভিন্ন ক্লাবে ধারেই কাটাতে হয়েছে। অবশেষে নিজের ক্যারিয়ারে নতুন মোড় আনতে ঠিকানা বদলে পর্তুগালে পাড়ি জমিয়েছেন ২০ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। ধারে পর্তুগিজ পরাশক্তি বেনফিকায় যোগ দিয়েছেন তিনি।
ট্রান্সফার চুক্তি চূড়ান্ত করতে এরই মধ্যে লিসবনে পৌঁছান এচেভেরি। পর্তুগিজ ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পেছনে ম্যানচেস্টার সিটিতে তাঁর দুই সতীর্থ রুবেন দিয়াস ও বার্নার্দো সিলভার প্রত্যক্ষ পরামর্শ ছিল। বেনফিকা তাঁদের প্রাক্তন ক্লাব হওয়ায় তরুণ এই মিডফিল্ডারকে সেখানে যাওয়ার বিষয়ে তাঁরা উৎসাহিত করেন। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘এ বোলা’-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ধারে দলবদলের এই চুক্তিতে মৌসুম শেষে এচেভেরি কে স্থায়ীভাবে কিনে নেওয়ার পথও খোলা রেখেছে বেনফিকা কর্তৃপক্ষ।
এর আগে বেয়ার লেভারকুসেন ও জিরোনা এফসিতে স্বল্প মেয়াদের জন্য খেলেছেন তরুণ এই ফুটবলার। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে রিভার প্লেট থেকে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়েছিলেন এচেভেরি। তবে ম্যানসিটি, লেভারকুসেন কিংবা জিরোনা—কোনো ক্লাবেই শুরুর একাদশে নিজের স্থান শক্ত করতে পারেননি তিনি। বেশিরভাগ সময়ই কাটাতে হয়েছে বদলি বেঞ্চে। তবে বেনফিকায় প্রধান কোচ মার্কো সিলভার ট্যাকটিক্যাল সেটআপে এচেভেরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। পর্তুগিজ ক্লাবটিতে ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সিতেই মাঠে নামবেন তিনি।
আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে পারফর্ম করে প্রথম ফুটবল বিশ্বের নজর কাড়েন এচেভেরি। ২০২৩ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপে পাঁচ গোল ও তিন অ্যাসিস্ট করে যৌথভাবে শীর্ষ গোলদাতা হন তিনি। পরবর্তীতে একই বছর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে একটি স্মরণীয় হ্যাটট্রিক করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন এই তরুণ। সিটিতে থিতু হতে না পারা এই আর্জেন্টাইন উদীয়মান তারকা এবার বেনফিকার হয়ে মাঠের মূল লড়াইয়ে নিজেকে প্রমাণের প্রত্যাশা করছেন।



