বগুড়ার শিবগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের ধানখেতে পড়ে গেছে জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীকে বহনকারী সরকারি গাড়ি। এ দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী নাজমা আরা বেগম এবং এক পথচারী আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে উপজেলার কিচক বাজারসংলগ্ন গোপীনাথপুর এলাকায় জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
আহত প্রতিমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য জয়পুরহাটের ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্যদিকে গাড়ির ধাক্কায় আহত ৬০ বছর বয়সী ফিরোজা বেগমকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী সরকারি গাড়িতে করে ঢাকা থেকে তাঁর নির্বাচনী এলাকা জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় যাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে স্ত্রী নাজমা আরা বেগমও ছিলেন। নিরাপত্তার জন্য তাঁদের গাড়ির সঙ্গে পুলিশের একটি নিরাপত্তা গাড়িও চলছিল।
কিচক বাজারের কাছে গোপীনাথপুর এলাকায় পৌঁছানোর পর পুলিশের নিরাপত্তা গাড়িটি আগে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর ফিরোজা বেগম মহাসড়কের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি প্রতিমন্ত্রীকে বহনকারী গাড়িটির সামনে চলে আসেন। তাঁকে এড়িয়ে যেতে গিয়ে চালক গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে গাড়িটি মহাসড়কের পাশের ধানখেতে গিয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্টরা আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। প্রতিমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীকে পরে অন্য একটি গাড়িতে করে জয়পুরহাটে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনায় সরকারি গাড়িটিরও ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী নাজমা আরা বেগম জানান, পুলিশের গাড়ি চলে যাওয়ার পর এক নারী হঠাৎ মহাসড়কের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের গাড়ির সামনে চলে আসেন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান। দুর্ঘটনায় তিনি ও প্রতিমন্ত্রী দুজনই শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছেন।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার পর প্রতিমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীকে অন্য একটি গাড়িতে করে জয়পুরহাটে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত সরকারি গাড়িটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছিল।
মহাসড়কে পথচারীদের অসতর্কভাবে পারাপার এবং দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে বাজার ও জনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি সড়ক পারাপারের সময় পথচারীদের সতর্ক থাকা জরুরি। একই সঙ্গে চালকদেরও এসব এলাকায় গতি নিয়ন্ত্রণে রেখে চলাচল করতে হয়।


