ইয়াবাসহ, ৩ যুবলীগ নেতা জন গ্রেপ্তার

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ধর্মপাশা উপজেলা যুবলীগের মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক শাকের হোসেন সাগরও রয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের বীর উত্তর গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার অপর দুজন হলেন শাকের হোসেন সাগরের ভাই সাজ্জাদ হোসেন এবং রানা মিয়া। পুলিশের দাবি, তাঁদের কাছ থেকে মোট ৩৮টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে ধর্মপাশা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সেলবরষ ইউনিয়নের বীর উত্তর গ্রামের বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেনের বাড়িতে মাদকদ্রব্য কেনাবেচা ও সংরক্ষণের বিষয়ে গোপন তথ্য পায় পুলিশ। ওই তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোরে ধর্মপাশা থানা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় বাড়িতে অবস্থান করা তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের তল্লাশি করে ৩৮টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শাকের হোসেন সাগর (৩৫) বীর উত্তর গ্রামের মৃত নুর হোসেনের ছেলে। তিনি ধর্মপাশা উপজেলা যুবলীগের মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই গ্রামের বাসিন্দা তাঁর ভাই সাজ্জাদ হোসেনের বয়স ৩৪ বছর। অপর গ্রেপ্তার ব্যক্তি মো. রানা মিয়া (৩৫) শরিশাম গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মদিন আলীর ছেলে।

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, গ্রেপ্তার তিনজনকে এর আগেও মাদকসহ আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁরা কারাগার থেকে জামিনে বা আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে আসেন। পুলিশের ভাষ্য, মুক্তির পর তাঁরা আবারও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েছেন—এমন তথ্য পাওয়ার পর তাঁদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছিল।

ওসি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোরে সাজ্জাদ হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তিনজনকে আটক করার পাশাপাশি ৩৮টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ধর্মপাশা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

অভিযানের পর গ্রেপ্তার তিনজনকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মাদকদ্রব্যের বিস্তার ঠেকাতে ধর্মপাশা উপজেলায় অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে মাদকের বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।

তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। মামলার তদন্তে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার উৎস, এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না এবং মাদক সরবরাহের সঙ্গে কোনো চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শুক্রবারের এই অভিযানের পর গ্রেপ্তার তিনজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আইন অনুযায়ী চলবে।

Tags :

সামিউর রহমান রাতুল | উপ-সম্পাদক | খবরওয়ালা বাংলা

https://bn.khaborwala.com/

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।